রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলিতে স্বচ্ছতা আনতে একাধিক বড় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আর এবার নব্য সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্কিম ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ নিয়ে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সামনে নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্প্রতি নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন— আগামী ১৭ই অগস্ট থেকে প্রাথমিক যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শেষে সমস্ত যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে নিয়ম মেনে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা ক্রেডিট হতে শুরু করবে। তবে এর পাশাপাশি, প্রকল্পে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং কোনো রকম জালিয়াতি রুখতে চালু করা হচ্ছে একটি বিশেষ সরকারি ‘অভিযোগ পোর্টাল’।
এই অভিযোগ পোর্টাল মূলত দুই ধরণের সমস্যার সমাধানের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। প্রথমত, কোনো প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারী যদি মনে করেন যে প্রশাসনিক ভুলত্রুটি বা তথ্যের অভাবে তাঁর আবেদন বাতিল হয়ে গিয়েছে, তবে তিনি এই পোর্টালে সরাসরি আবেদন পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাতে পারবেন। দ্বিতীয়ত, সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যদি অসৎ উপায়ে এই প্রকল্পের টাকা পেয়ে থাকেন, তবে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণসহ সাধারণ নাগরিকেরা তাঁদের বিরুদ্ধেও এই পোর্টালে অভিযোগ দায়ের করতে পারবেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন— জমা পড়া সমস্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির মূল দায়িত্বে থাকবেন সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও-রা। মুখ্য সচিবের নির্দেশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হিয়ারিং বা শুনানির মাধ্যমে সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন বিডিও-রা।
এখানেই শেষ নয়, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা কারা পাবেন এবং কারা এর আওতায় আসবেন না, তা নিয়ে আরও একবার কড়া নির্দেশিকা মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারী নারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। কিন্তু যাঁরা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার, পুরসভা, পঞ্চায়েত বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মী কিংবা শিক্ষক, তাঁরা এই ভাতার সুবিধা পাবেন না। পাশাপাশি, যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি বা যাঁরা আয়কর প্রদান করেন, এবং যে সমস্ত নারী ব্যক্তিগতভাবে মাসে ১০ হাজার টাকার বেশি উপার্জন করেন, তাঁদেরকেও এই প্রকল্পের বাইরে রাখা হয়েছে। তবে যাঁরা বর্তমানে ৩ হাজার টাকার কম সরকারি ভাতা পান, তাঁদের ক্ষেত্রে ভাতা বাড়িয়ে অন্নপূর্ণা যোজনার পূর্ণ ৩ হাজার টাকাই প্রদান করা হবে। তো ভুয়া উপভোক্তা ছাঁটাই করে প্রকৃত অভাবী মহিলাদের মুখে হাসি ফোটাতে নবান্নের এই কড়া অভিযোগ পোর্টাল ব্যবস্থা বঙ্গ রাজনীতি ও প্রশাসনে সত্যিই এক নতুন দৃষ্টান্ত গড়ে তুলছে।