Wielding brooms, women drive Trinamool candidate out of the area.

ঝাঁটা হাতে তৃণমূল প্রার্থীকে এলাকা ছাড়া করলেন মহিলারা! গলায় ফুলের মালা পরার বদলে কিনা কপালে জুটল ঝাঁটার তাড়া!

ভোটের ঢাক বেজে গিয়েছে। আর তাই ভোট চাইতে দুয়ারে দুয়ারে হাজির হচ্ছেন প্রার্থীরা। তবে, এবার এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটলো তৃণমূল এক প্রার্থীর সঙ্গে। এলাকায় ঢুকতেই ঝাঁটা হাতে ওই প্রার্থীর দিকে তেড়ে এলেন মহিলারা। শুরু হয় ব্যাপক গণ্ডগোল। জানা গিয়েছে, একজন তৃণমূল সমর্থকের এই ঘটনার জেরে মাথা ফেটে গিয়েছে। এই ঘটনাটি বিজেপির দখলে থাকা ময়নার বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের। কিন্তু আচমকা কেন এমন হামলা? অভিযোগ, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের বসবাসকারী কয়েক হাজার মহিলার লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যদিও পরবর্তীতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে সেই সমস্যার সমাধান ঘটে এবং সরকারি ওই প্রকল্পের টাকা ফের তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ঢুকতে শুরু করে। তবে, এলাকার লোকেদের মধ্যে এর জন্য ক্ষোভ কমেনি। বরং, এলাকার তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডলকে হাতের কাছে পেয়েই রণমূর্তি ধারণ করেন এলাকার মহিলারা।

ঘটনাটি গত শনিবারের! পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নার বাকচা গ্রাম পঞ্চায়েতের হালিশহর গ্রামে নিজের নির্বাচনী প্রচার সারতে পৌঁছেছিলেন চন্দন মণ্ডল। তার সঙ্গে দলের বেশ কিছুজন নেতা-কর্মীও ছিলেন। শাসক দলের অভিযোগ, তাদের প্রচারের সময় কয়েকজন দুষ্কৃতী মহিলাদের নিয়ে প্রার্থী-সহ তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের উপর চড়াও হন। তাদের ধারণা, এই হামলা আসলে বিজেপির নেতৃত্বেই চালানো হয়েছে। যাতে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা যায়। তাদের দাবি, এই হামলা চালানোর মূল কারণ প্রচারে বাধা দেওয়া। এ ঘটনা প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী চন্দন মণ্ডল জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে জনসংযোগ করছিলেন। সে সময় বিজেপির দুষ্কৃতীরা বেশ কিছু মহিলাদের জড়ো করে ঝাঁটা, লাঠি, রড হাতে নিয়ে, ইট ছুঁড়ে তাদের পথ আটকান। এমনকি, তৃণমূলের বেশ কয়েকজন সমর্থককে মারধর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। যার জেরে অনেকেই জখম হয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে পূর্ব মেদিনীপুরের নির্দিষ্ট ওই এলাকার প্রায় ৭ হাজার মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছিল। যদিও পরবর্তীতে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপে সে সমস্যার সমাধান ঘটে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ফের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেতে শুরু করেন ওই মহিলারা। যদিও এই ঘটনার জেরে হাইকোর্ট প্রশাসনের থেকে লিখিতভাবে জানতে চেয়েছিল, কেন এই বিপুল সংখ্যক মহিলারা ওই কয়েকমাস সরকারি প্রকল্পের টাকা পাননি। এ প্রশ্নের উত্তরে প্রশাসন জানিয়েছিল, পোর্টালে সমস্যা হওয়ায় লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকতে সময় লাগছিল। তবে, তা মানতে নারাজ ছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। উল্টে তাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকার কারণেই এই বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে তাদের। আর এর জেরে সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ অনেক আগে থেকেই ছিল। যা আরও তীব্র হয়ে ওঠে গত শনিবার তৃণমূল প্রার্থীকে হাতের কাছে পেয়ে।

যদিও শাসকদলের প্রার্থী চন্দন মন্ডল এ বিষয়টি নিয়ে কোনো মুখ খোলেননি। বরং তার অভিযোগ, বিজেপি ময়না বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় ছাপ্পা ভোট দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। তাই সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানোর এমন কাজ করছে তারা। এমনকি, ভোট দিতে বিজেপি বাধা দেবে বলেও দাবি তোলেন তিনি। পাশাপাশি তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মন্ডল নির্বাচন কমিশনের কাছে আর্জি জানান, ময়না বিধানসভা আসনে যাতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা সম্ভব হয় তা নিশ্চিত করার জন্য। অন্যদিকে এ ঘটনা প্রসঙ্গে ময়নার বিজেপি প্রার্থী অশোক দিন্দা নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, এলাকার মহিলারা কয়েকমাস ধরে সরকারি প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন না, তাই তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। প্রার্থীকে সামনে পেয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের মতো করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। এই ঘটনা কোনো প্ররোচনামূলক নয়। তবে, ভোটের আগেই এহেন ঘটনায় আপাতত বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ময়না। এখন দেখার এই এলাকায় ভোটের দিন কি ঘটে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *