Will India really send back illegal infiltrators this time?

অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের কি এবার সত্যিই ফেরত পাঠাবে ভারত? সমস্যায় পড়বেন ভারতে বসবাসকারী বাংলাদেশীরা?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়ের পর রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে এক ধাক্কায়। দীর্ঘ পনেরো বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে ক্ষমতায় এসেছে কেন্দ্রের শাসক দল। আর সেই ফল ঘোষণার পর থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যু নতুন করে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিল, ভারতের নীতি একটাই। যে সমস্ত বিদেশি নাগরিক অবৈধ ভাবে ভারতে বসবাস করছেন, তাঁদের চিহ্নিত করে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এবং এই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সহযোগিতাও প্রত্যাশা করছে নয়াদিল্লি।

বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, গত কয়েক দিনে এ ধরনের একাধিক মন্তব্য ভারতের নজরে এসেছে। মূল বিষয় হল অবৈধ অভিবাসন। ভারত বরাবরই অবৈধ ভাবে থাকা বিদেশি নাগরিকদের প্রত্যর্পণের পক্ষে। তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে বাংলাদেশকে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ ত্বরান্বিত করতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল, বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত প্রায় ২৮৬০টিরও বেশি মামলা ঝুলে রয়েছে। এগুলোর মধ্যে বহু মামলাই পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে অমীমাংসিত। ফলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া আটকে যাচ্ছে বলেই অভিযোগ ভারতের। কিন্তু হঠাৎ কেন এই কড়া বার্তা?

আসলে এর সূত্রপাত বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী খলিলুর রহমানের মন্তব্য ঘিরে। পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তিনি বলেছিলেন, যদি ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘পুশ ইন’ করার চেষ্টা হয়, তাহলে ঢাকা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সমাজমাধ্যমেও সেই মন্তব্য প্রকাশ করা হয়। তারপর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর চর্চা। আর তার জবাব দিতেই এবার সরাসরি অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত সরকার। দিল্লির বক্তব্য পরিষ্কার, এটা কোনও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং দেশের আইন এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।

উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে বড় অস্ত্র করেছিল বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রায় প্রত্যেক বিজেপি নেতাই দাবি করেছিলেন, বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ পশ্চিমবঙ্গের জনসংখ্যার ভারসাম্য, নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির উপর প্রভাব ফেলছে। বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম বড় বিষয় ছিল, ক্ষমতায় এলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে দেশছাড়া করা হবে। আর এবার বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে এই ইস্যু শুধু রাজনৈতিক নয়, কূটনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত সংবেদনশীল।

কারণ ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক গত এক দশকে অনেকটাই ঘনিষ্ঠ হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, বাণিজ্য, জলবণ্টন, জঙ্গি দমন, একাধিক ক্ষেত্রে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করেছে। সেই পরিস্থিতিতে অনুপ্রবেশ ইস্যু নতুন করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চাপ তৈরি করতে পারে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বাংলাদেশ কী পদক্ষেপ নেয়? ঢাকা কি ভারতের দাবি মেনে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাই প্রক্রিয়া শুরু করবে?
নাকি এই ইস্যু দুই দেশের মধ্যে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি করবে? কারণ দিল্লি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের ফেরত পাঠানোর নীতি থেকে ভারত একচুলও সরবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *