সিএএ নিয়ে এবার বড়সড় বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। বাংলাদেশি প্রমাণপত্র ছাড়াই আগামী দিনে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যাবে বলে জানালেন তিনি। শুধু তাই নয়, যাঁদের কাছে জাতিগত শংসাপত্র কিংবা এসসি সার্টিফিকেট নেই, তাঁদেরও শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শান্তনু ঠাকুরের এই মন্তব্যের পর নতুন করে আশার আলো দেখছেন মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষ।
রাজ্যে পালাবদলের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়িতে পা রাখতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার দ্বিতীয় বর্ষের আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা তাঁর। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যেই মতুয়া মহলে তৈরি হয়েছে বাড়তি উৎসাহ। দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকত্ব, পরিচয়পত্র এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যে প্রশ্ন ও প্রত্যাশা রয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর সফরে তার কোনও সুরাহা হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন অনেকে।
মুখ্যমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরবাড়িতে এখন সাজো সাজো রব। জোরকদমে চলছে প্রস্তুতি। শনিবার সেই প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রীর সফরসূচি সম্পর্কে বিস্তারিত জানান তিনি। শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুরে ঠাকুরবাড়িতে পৌঁছে প্রথমে হরি মন্দিরে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর আন্তর্জাতিক গোঁসাই সম্মেলনের মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখবেন। পরে শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সেরে সেখান থেকে বেরিয়ে যাবেন।
তবে এই সফর শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ কিংবা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। তাঁর দাবি, মতুয়াদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর আলোচনা হয়েছে। নাগরিকত্ব থেকে শুরু করে জাতিগত শংসাপত্র সংক্রান্ত একাধিক বিষয় উঠে এসেছে সেই আলোচনায়। রবিবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও এই বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
আর সেই প্রসঙ্গেই সিএএ নিয়ে বড় মন্তব্য করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। শান্তনু ঠাকুরের কথায়, আগামী দিনে সিএএ-তে আবেদন করার জন্য কোনও বাংলাদেশি প্রমাণপত্রের প্রয়োজন হবে না। অর্থাৎ, বাংলাদেশ থেকে আসার পক্ষে নির্দিষ্ট নথি না থাকলেও আবেদন করার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য। তবে এই বিষয়ে ঠিক কী নিয়ম কার্যকর হবে, কোন নথির ভিত্তিতে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং কবে থেকে এই প্রক্রিয়া চালু হবে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু স্পষ্ট করেননি তিনি।
একইসঙ্গে যাঁদের কাছে জাতিগত শংসাপত্র বা এসসি সার্টিফিকেট নেই, তাঁদেরও শংসাপত্র দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন শান্তনু ঠাকুর। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়গুলি নিয়ে কথা হয়েছে এবং আগামী দিনে তা নিয়ে পর্যালোচনা করা হবে। ফলে মতুয়া সম্প্রদায়ের যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন নথিপত্রের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের মধ্যে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী হবে, তা এখনও জানা যায়নি।
এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, রবিবার ঠাকুরবাড়িতে এসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কি মতুয়াদের জন্য কোনও বড় ঘোষণা করবেন? শান্তনু ঠাকুরের বক্তব্যের পর সিএএ এবং শংসাপত্র সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। তবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যের বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, তার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি নির্দেশিকা ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে। সব মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঠাকুরবাড়ি সফর ঘিরে এখন নজর মতুয়াগড়ের দিকে। এবার কি দীর্ঘদিনের নাগরিকত্ব ও নথিপত্রের জট কাটবে? উত্তর মিলতে পারে রবিবারই।