বাংলার মাটিতে বদলের হাওয়া। রাজ্যে বিজেপির সরকার প্রতিষ্ঠার পর বাংলায় এলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত। আর তাঁর এই সফর ঘিরেই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। সংঘকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দেওয়া, মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়া এবং তাঁদের মনের গভীরে জায়গা করে নেওয়া এবার এই লক্ষ্যেই জোর দিতে চাইছে আরএসএস। সংগঠন শুধু বাড়ালেই হবে না, মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। ছুঁয়ে যেতে হবে সমাজের প্রতিটি স্তরকে।
আরএসএস সূত্রে খবর, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের মধ্য প্রান্তের কার্যালয়ে রাজ্যের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন তিনি। শুক্রবারও দিনভর চলে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা। মধ্যবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের সংগঠকদের সঙ্গে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করেন সংঘপ্রধান। সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা, একাধিক বিষয় উঠে আসে আলোচনায়।
এদিন সকালে সংঘের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শরীরচর্চাতেও অংশ নেন মোহন ভাগবত। তারপর দিনভর চলে সাংগঠনিক আলোচনা ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে মতবিনিময়। একের পর এক বৈঠকে সংগঠকদের কাছ থেকে রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য নেওয়ার পাশাপাশি সংঘের কাজ আরও বিস্তৃত করার দিকেও জোর দেন তিনি। সব মিলিয়ে, বাংলায় সংগঠনের বর্তমান অবস্থান পর্যালোচনা এবং আগামী দিনের পথ তৈরি করাই ছিল এই সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে মোহন ভাগবতের এই সফর এখানেই শেষ নয় বলেই ইঙ্গিত মিলছে। সূত্রের খবর, আগামী ডিসেম্বর মাসেও তিনি রাজ্যে আসতে পারেন। ব্রিগেডে লক্ষ কণ্ঠে গীতাপাঠের অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন প্রবুদ্ধ নাগরিকের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। সেই সফর ঘিরেও এখন থেকেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। ধর্মীয় ও সামাজিক পরিসরে এমন বড় জমায়েতের মঞ্চ থেকে তিনি কী বার্তা দেন, সেদিকেও নজর থাকবে।
মোহন ভাগবতের বাংলায় আসা এবং একের পর এক বৈঠককে শুধুমাত্র রুটিন সাংগঠনিক কর্মসূচি হিসেবে দেখছে না সংশ্লিষ্ট মহল। সংঘের শাখা বাড়ানো, সংগঠনের ভিত মজবুত করা এবং সমাজের আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার লক্ষ্য স্পষ্ট। কিন্তু সেই লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা নির্ভর করবে মানুষের সঙ্গে সংঘের যোগাযোগ কতটা গভীর হয় তার উপর। কারণ, সংগঠনের প্রকৃত শক্তি শুধু তার বিস্তারে নয়, মানুষের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারছে, তার মধ্যেও নিহিত। বাংলার মাটিতে সেই মন জয়ের লক্ষ্যেই এবার আরও জোর দিতে চাইছে আরএসএস।
