ক্যামাক স্ট্রিটে বিকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হাই-ভোল্টেজ ড্রামা !

তিলোত্তমা কলকাতার অভিজাত এলাকা ক্যামাক স্ট্রিটে হঠাৎই নেমে এলো চরম উত্তেজনা ও তীব্র প্রশাসনিক অচলাবস্থা! পুরসভার নিয়ম ভেঙে বেআইনি বিলবোর্ড ও হোর্ডিং উচ্ছেদ করতে গিয়ে সেখানে তৈরি হলো এক অভূতপূর্ব নজিরবিহীন পরিস্থিতি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের গায়ে হাত তোলা এবং সরকারি আধিকারিকদের কাজে সরাসরি বাধা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের বিরুদ্ধে!

বৃহস্পতিবার সকালে ক্যামাক স্ট্রিটের ওই ভবনে অবৈধ বিলবোর্ড সরানোর জন্য যখন কলকাতা পুরসভার একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পুলিশকে সাথে নিয়ে পৌঁছায়, তখনই বাধা হয়ে দাঁড়ান সাংসদ। রণংদেহী মেজাজে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে তাঁর দাবি— পুরসভার ওই নির্দিষ্ট অর্ডারে নাকি ছিল না কোনো মেমো নম্বর, অফিশিয়াল স্ট্যাম্প কিংবা আধিকারিকদের সই! আর এই পরেই দিল্লির নির্দেশ ও রাজনৈতিক চালের দিকে আঙুল তুলে কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

তবে ছেড়ে কথা বলতে নারাজ রাজ্য সরকারও! এই ঘটনার পর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে রাজ্য সরকারের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় সাফ জানিয়ে দেন— একটি নির্দিষ্ট ভবনে একাধিক অফিস থাকলে সেখানে এমন অনিয়ন্ত্রিত হোর্ডিং ঝোলানো পুরোপুরি বেআইনি। বিগত ১৫ বছর ধরে পিসি ও ভাইপোর যে স্বৈরাচারী শাসন চলেছে, সেখান থেকে বের হতে না পেরেই আজ তারা সবকিছুর মধ্যে রাজনীতি খুঁজছেন। প্রশাসনিক কাজে বাধা দেওয়া এবং পুলিশের ওপর চড়াও হওয়ার কারণে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারি আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হতেই পারে বলে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।

অন্যদিকে, প্রশাসনিক এই সংঘাতের মাঝেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়া নিয়ে চড়েছে রাজনীতির পারদ। শুক্রবার ১০ হাজার কণ্ঠে বন্দে মাতরম্ গাওয়ার যে ঐতিহাসিক ডাক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিয়েছিলেন, তাকে সমর্থন জানিয়ে তাপস রায় দাবি করেন— এটা কেবল এক সূচনা, আগামী দিনে বাংলার মাটিতে ১০ লক্ষ কণ্ঠে প্রতিধ্বনিত হবে এই গান। রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি ও বন্দে মাতরমের বিরোধিতা যারা করছে, তারা আসলে উগ্রপন্থী ও দেশবিরোধী মানসিকতার বাহক! সব মিলিয়ে, একদিকের বেআইনি হোর্ডিং কাণ্ড আর অন্যদিকে যাদবপুরের বুক্ষে জাতীয়তাবাদের বার্তা— দুই মেগা ইস্যুতে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতির ময়দান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *