নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে কার্যত বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা। মধ্য নেপালে আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাসুয়া, ধাদিং এবং নুয়াকোট জেলা। ভোতে কোশী নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে ভয়াবহ পরিস্থিতি। জলের স্রোতে ভেসে গেছে একাধিক সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। একই সঙ্গে অন্তত এক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় বন্যার পাশাপাশি শুরু হয়েছে ব্যাপক ভূমিধস। বিশেষ করে নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী অঞ্চলে পরিস্থিতি আরও জটিল। একদিকে প্রবল জলস্রোত, অন্যদিকে পাহাড় থেকে নেমে আসা কাদা ও ধস—সব মিলিয়ে উদ্ধারকাজ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেপালি পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন একটি এলাকায় কাদা ধসে আরও মৃত্যু হয়েছে এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ। ভারতেরও বহু পর্যটক এখনো আটকে রয়েছেন নেপালে। প্রায় তিনশোর কাছাকাছি ভারতীয় পর্যটক এখনো নিখোঁজ। নিখোঁজ মানুষদের সন্ধানে চলছে অভিযান। একই সঙ্গে দুর্গতদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, কারণ বহু মানুষ এখনও নিখোঁজ।এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই নেপালের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ইতিমধ্যেই ভারত সাহায্য পাঠাচ্ছে নেপালকে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বন্যায় প্রাণহানি এবং সম্পত্তির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিতে তিনি গভীর শোক প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুই দেশের দল ইতিমধ্যেই উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সমন্বয় করে কাজ করছে। এই কঠিন সময়ে নেপালের মানুষের পাশে ভারতের মানুষ রয়েছে—এই বার্তাও স্পষ্ট করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই বার্তার পরই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক্স-এ দেওয়া পোস্টে জানিয়েছে, সংকটের সময়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সহানুভূতিপূর্ণ কথা এবং সাহায্যের উদার প্রস্তাবের জন্য কাঠমান্ডু গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। বালেন্দ্র শাহ আরও বলেন, ভারতের এই সংহতির নিদর্শন দুই দেশের মধ্যে থাকা বন্ধুত্বের দৃঢ় বন্ধনকে প্রতিফলিত করে। এই বন্ধনকে নেপাল অত্যন্ত মূল্যবান বলে মনে করে বলেও জানান তিনি।
