পুজোর আনন্দে মেতে উঠবেন, কিন্তু নেশা করে ঢোকা যাবে না মণ্ডপে। দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের ঐতিহ্যবাহী চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি এবার পুজোয় কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মদ্যপ অবস্থায় কোনও দর্শনার্থীকেই মণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আর নিয়ম ভাঙছেন কি না, তা জানতে প্রবেশপথেই হবে ব্রেথলাইজার পরীক্ষা।
চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের এবারের থিম পদ্ম দিঘির ঘাটে। পুজো কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃতীয়া থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত মণ্ডপে মদ্যপ অবস্থায় কাউকে ঢুকতে দেওয়া হবে না। অর্থাৎ শুধু অষ্টমী নয়, পুজোর প্রায় পুরো সময়জুড়েই কার্যকর থাকবে এই নিয়ম। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং পুজোর পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে কমিটি।
নিয়ম কার্যকর করতে মণ্ডপের প্রবেশমুখেই বসানো হবে ব্রেথলাইজার। সন্দেহ হলে দর্শনার্থীদের পরীক্ষা করা হবে। গোটা ব্যবস্থাপনায় কলকাতা পুলিশের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তার জন্য প্রায় ৩০ জনের একটি বিশেষ সিকিউরিটি দল মোতায়েন থাকবে। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন পুজো কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরাও।চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের কার্যকরী সভাপতি গোরা রায় চৌধুরীর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর অষ্টমীর দিন মদ বন্ধ রাখার নির্দেশের বিষয়টি মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা শুধু অষ্টমীর দিন নয়, তৃতীয়া থেকে দ্বাদশী পর্যন্ত মদ্যপ অবস্থায় দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করছেন। পুজোর পরিবেশ এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে পুজোর আগে রাজ্য সরকারের তরফেও মদ বিক্রি নিয়ে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত পুজোর ষষ্ঠী থেকে নবমী পর্যন্ত রাজ্যে মদের দোকান খোলা থাকে। দশমীতে থাকে ড্রাই ডে। তবে এবার পুজোর দিনপঞ্জিতে পরিবর্তনের কারণে অষ্টমীর দিনও মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।অষ্টমীর দিন শুধু মদের দোকান নয়, বার ও পানশালাতেও মদ পরিবেশন করা যাবে না। ফলে চলতি পুজোয় মোট দু’দিন কার্যত ‘ড্রাই ডে’ থাকবে, অষ্টমী এবং দশমী। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পরই চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন আরও এক ধাপ এগিয়ে মণ্ডপে মদ্যপ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফলে এবার চক্রবেড়িয়া সর্বজনীনের পুজোয় শুধু প্রতিমা দর্শন বা থিম দেখাই নয়, নজরে থাকবে দর্শনার্থীদের আচরণও। প্রবেশপথে ব্রেথলাইজার, ৩০ জনের নিরাপত্তা দল এবং স্বেচ্ছাসেবকদের নজরদারি সব মিলিয়ে পুজোর ভিড়ে নেশা করে বিশৃঙ্খলা ঠেকাতেই কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছে পুজো কমিটি। তাঁদের বার্তা একটাই পুজোর আনন্দ হোক, কিন্তু নেশা করে নয়।
