মোদী থেকে ট্রাম্প দেশের বড় বড় নেতাদের আয় কত জানেন ?দেশ চালাতে প্রায় কয়েক কোটি টাকা বেতন পান এই দেশপ্রেমিক নেতারা !

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী কিংবা ধনী রাষ্ট্রনায়ক বললেই সাধারণ মানুষের চোখে সবার আগে ভেসে ওঠে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি। বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির অভিভাবক হিসেবে এটাই খুব স্বাভাবিক ধারণা। কিন্তু সরকারি বেতনের অফিশিয়াল পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে আপনি চমকে উঠতে বাধ্য হবেন! কারণ বার্ষিক বেতনের অঙ্কে ডোনাল্ড ট্রাম্প, কিংবা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নন— সবার ওপরে এমন এক দেশের প্রধানমন্ত্রী রাজত্ব করছেন, যাঁর বেতন বিশ্বের তাবড় তাবড় কর্পোরেট সিইও-দেরও হার মানায়!

বিশ্বনেতাদের আয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং। সম্প্রতি প্রায় ১৫ বছর পর স্বাধীন কমিটির সুপারিশ মেনে তিনি রাজনৈতিক পদাধিকারীদের বেতন সংশোধন করেছেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর বার্ষিক বেতন প্রায় ৬৪ শতাংশ বাড়িয়ে নির্ধারিত করা হয়েছে ৩৬ লক্ষ সিঙ্গাপুর ডলারে! ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৭ কোটি টাকার সমান! তবে এই আকাশছোঁয়া বেতন নিয়ে বিতর্ক শুরু হতেই এক নজিরবিহীন মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লরেন্স ওং। তিনি ঘোষণা করেছেন, আগামী পাঁচ বছর নিজের বর্ধিত বেতনের পুরো অংশটাই তিনি বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সামাজিক কাজে ও চ্যারিটিতে দান করবেন। সিঙ্গাপুরে দুর্নীতির প্রবণতা রুখতে এবং শীর্ষ মেধার মানুষদের রাজনীতিতে টেনে আনতেই এই বিপুল সরকারি বেতনের মডেল অনুসরণ করা হয়।

তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন হংকংয়ের চিফ এক্সিকিউটিভ জন লি কা-চিউ, যাঁর বার্ষিক সরকারি বেতন প্রায় ৭ লক্ষ ১৯ হাজার মার্কিন ডলার। তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছেন সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট, যাঁর বার্ষিক আয় আনুমানিক ৬ লক্ষ ৬ হাজার ডলার। উল্লেখ্য, সুইজারল্যান্ডে কোনো এক ব্যক্তি স্থায়ীভাবে দীর্ঘমেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকেন না, সাত সদস্যের ফেডারেল কাউন্সিল থেকে প্রতি বছর চক্রাকারে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

এবার আসা যাক হোয়াইট হাউসের অধিপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রসঙ্গে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক বার্ষিক বেতন ৪ লক্ষ মার্কিন ডলার। সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বেতনের তুলনায় এটি এক-সপ্তমাংশ হলেও, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য গোটা বিশ্বের নজর কাড়ে। আন্তর্জাতিক আর্থিক বিশ্লেষণ ও ফোর্বসের রিয়েল-টাইম হিসাব অনুযায়ী, রিয়েল এস্টেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি এবং নিজস্ব ব্যবসায়িক বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে ট্রাম্পের মোট ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ আজ প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে গিয়েছে! অর্থাৎ তাঁর সরকারি বেতন প্রতীকী হলেও তিনি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ বিলিয়নিয়ার নেতা।

আর এই মেগা তালিকার ঠিক বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জীবনধারা। বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশের চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মাসিক বেতন আনুমানিক ১ লক্ষ ৬৬ হাজার টাকা। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি ভাতা মিলিয়ে তাঁর বার্ষিক বেতন দাঁড়ায় প্রায় ২০ লক্ষ টাকার মতো। আন্তর্জাতিক স্তরে এত বিপুল প্রভাব ও ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিজের ত্যাগ ও অনাড়ম্বর সাদামাটা জীবনযাপনের মাধ্যমে মোদী প্রমাণ করে দিয়েছেন— রাজনৈতিক নেতৃত্ব কোনো বিলাসবহুল উপার্জনের পেশা নয়, বরং তা দেশ ও কোটি কোটি মানুষের সেবায় আত্মনিবেদনের এক পবিত্র দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *