অযোধ্যার পুণ্যভূমিতে শ্রীরামলালার ঐতিহাসিক প্রত্যাবর্তনের পর, এবার সনাতন সংস্কৃতির অধিকার আদায়ের লড়াই আছড়ে পড়ল বাংলার মাটিতে। উত্তরবঙ্গের মালদহ জেলার পাণ্ডুয়ায় অবস্থিত ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে কেন্দ্র করে এবার শুরু হয়েছে এক নতুন আলোড়ন। দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ আর সনাতনী আবেগকে সঙ্গী করে এবার সরাসরি ময়দানে নেমেছে বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চ। তাদের স্পষ্ট প্রশ্ন, যদি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে অযোধ্যার রাম জন্মভূমি উদ্ধার হতে পারে, তবে কেন বাংলার বুকে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন আদিনাথ শিব মন্দির তার নিজস্ব গৌরব ফিরে পাবে না?
রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পরেই এই
বিতর্ক এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা ঐতিহাসিক হিন্দুত্ববাদের এই দাবিকে পুনরুজ্জীবিত করে বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চের একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি রাজ্যের পর্যটন ও পরিষদীয় দপ্তরের মন্ত্রী ডঃ শঙ্কর ঘোষের দ্বারস্থ হয়েছেন। রবিবাসরীয় এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি ঐতিহাসিক স্মারকলিপি।
মহামঞ্চের সভাপতি বিক্রমাদিত্য মণ্ডলের নেতৃত্বে এই দাবিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, মালদহের এই সুবিশাল কাঠামোটি কোনো সাধারণ মসজিদ নয়, বরং এটি ছিল প্রাচীন ও অত্যন্ত পবিত্র আদিনাথ শিব মন্দির। চতুর্দশ শতাব্দীতে সুলতান সিকান্দার শাহের শাসনকালে, আনুমানিক ১৩৭৩ থেকে ১৩৭৪ খ্রীষ্টাব্দের মধ্যে, সেই প্রাচীন সুপ্রাচীন মন্দিরটি ধ্বংস করে তার ওপর এই মসজিদের কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল।
গবেষক এবং প্রত্নতাত্ত্বিকদের একাংশের দাবিকে সামনে রেখে মহামঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আদিনা মসজিদের পরতে পরতে, তার দেওয়ালে এবং খিলানে আজও সনাতন ধর্মের বহু প্রাচীন পবিত্র নিদর্শন ও দেবদেবীর মূর্তি খোদাই করা অবস্থায় দৃশ্যমান রয়েছে। আর ঠিক এই কারণেই, সত্যকে আড়াল থেকে আলোর সামনে নিয়ে আসতে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া বা এএসআই-কে দিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলা হয়েছে। মহামঞ্চের দাবি, অযোধ্যার বাবরি কাঠামোর মতোই আদিনার ক্ষেত্রেও রাডার সমীক্ষা এবং খননকার্যের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।
মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের কাছে দেওয়া এই স্মারকলিপিতে আরও আবেদন করা হয়েছে যেন এই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ঐতিহাসিক বিষয়টি আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে আদিনা মসজিদকে পুনরায় আদিনাথ মন্দির হিসেবে ঘোষণা করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করার দাবি জানানো হয়েছে। বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চের দৃঢ় বিশ্বাস, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা সত্য কখনো চিরকাল লুকিয়ে রাখা যায় না। বাংলার বুকে হিন্দু ঐতিহ্যের এই পুণ্যভূমির মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে তারা শেষ পর্যন্ত লড়াই করতে প্রস্তুত। রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রীও এই দাবিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। এখন দেখার, অযোধ্যার পর বাংলার এই আদিনাথ মন্দিরকে কেন্দ্র করে সনাতনী জাগরণের এই ঢেউ আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়।