আরজি কর কাণ্ডের সাথে যুক্ত প্রমাণ লোপাট ও তড়িঘড়ি দেহ সৎকারের অভিযোগে ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া পানিহাটির সাবেক তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ঘিরে শুক্রবার আদালতের বাইরে ঘটল অভূতপূর্ব উত্তেজনা ও হুলুস্থুল কাণ্ড। খড়দহ থানা থেকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় জনরোষের মুখে পড়েন ৮০ বছর বয়সি নির্মল ঘোষ ও সাবেক কাউন্সিলর সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়। হেলমেট পরানো সত্ত্বেও তাঁদের ওপর ডিম-বৃষ্টি করা হয়, পরানো হয় জুতোর মালা, এমনকি চলে চড়-লাথি। এই হিংসাত্মক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এবার প্রতিক্রিয়া জানালেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা অভয়ার মা তথা পানিহাটির বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছেন অভয়ার মা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন— আইন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর তাঁর পূর্ণ ভরসা রয়েছে। ৮০ বছর বয়সের একজন প্রবীণ মানুষের ওপর এভাবে ডিম, কাদা ছোড়া কিংবা চড়-লাথি মারা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। কারণ উত্তেজনার বশে তাঁর কোনো বড় শারীরিক ক্ষতি বা হার্ট অ্যাটাক হয়ে গেলে অভয়া কাণ্ডের মূল তথ্যপ্রমাণ কোনোদিনই সামনে আসত না। মানুষ হিসেবে এই ধরনের হেনস্তা তিনি মন থেকে মেনে নিতে পারেননি বলে জানান।
তবে জনরোষ সমর্থন না করলেও অভিযুক্ত সাবেক বিধায়ক নির্মল ঘোষের কঠোরতম শাস্তির দাবিতে অনড় তিনি। রত্না দেবনাথ দাবি করেন— কেবল জেল হেফাজতে রেখে কোনো লাভ হবে না, অভয়া কাণ্ডে দোষীদের অবিলম্বে ফাঁসি দিতে হবে। একই সাথে পানিহাটি এলাকায় বহু পুকুর ভরাট ও বেআইনি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি জানান, তৎকালীন রাজ্য প্রশাসনকে বারবার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও সাবেক সরকারের মুখ্যমন্ত্রী কোনো পদক্ষেপ নেননি। আপাতত আদালত নির্মল ঘোষ ও সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়কে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠালেও, নজিরবিহীন এই আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এখন নজর রয়েছে পুরো পশ্চিমবঙ্গের।