স্বাধীনতা দিবসে নতুন সাজে প্রধানমন্ত্রী, মোদীর লাল বাঁধনির পাগড়ি কি কেবলই ফ্যাশন?

পোশাকেরও একটা ভাষা আছে। কথা না বলেও পোশাক অনেক কিছু বলে দেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষেত্রে সেই ভাষাটা বিশেষ করে ধরা পড়ে স্বাধীনতা দিবসে। লালকেল্লার মঞ্চে তাঁর সাজ যেন শুধু ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে নিজের যোগেরও প্রকাশ।প্রতি বছর ১৫ অগস্টে তাই ভাষণের পাশাপাশি নজর থাকে তাঁর মাথার পাগড়িতে। কখনও গেরুয়া, কখনও তেরঙা, কখনও রাজস্থানি লেহেরিয়া পাগড়ির রং আর নকশা বদলেছে বারবার। কিন্তু প্রতিবারই তার মধ্যে থেকেছে ভারতের কোনও না কোনও প্রান্তের সংস্কৃতির ছোঁয়া।

এবার সেই তালিকায় লাল বাঁধনি। গুজরাত ও রাজস্থানের ঐতিহ্যবাহী এই বাঁধনি শুধু একটি কাপড়ের নকশা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু পুরনো ভারতীয় হস্তশিল্পের ঐতিহ্য। সেই নকশাই এবার জায়গা করে নিয়েছে দেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বাধীনতা দিবসের শিরোসজ্জায়।লাল রংও যেন আলাদা করে চোখে পড়ে। তার উপর হলুদ, সবুজ আর সাদা নকশা। দূর থেকে দেখলেও পাগড়িটি নজর কাড়ে। কিন্তু তার থেকেও বড় কথা, এই সাজে উঠে আসে দেশের মাটির গন্ধ কারিগরের হাতের কাজ, আঞ্চলিক সংস্কৃতি আর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা বয়নশিল্প।

মোদীর স্বাধীনতা দিবসের পাগড়ির আরও একটি বিশেষ দিক হল এর বৈচিত্র্য। তিনি শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের পোশাককে বেছে নেননি। বছরের পর বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রং, নকশা ও ঐতিহ্য তাঁর সাজে জায়গা পেয়েছে। যেন লালকেল্লার মঞ্চ থেকেই ভারতকে তার বৈচিত্র্যের মধ্য দিয়ে তুলে ধরা।আর এই কারণেই পাগড়িটি নিছক ফ্যাশনের বিষয় হয়ে থাকে না। স্বাধীনতা দিবসের মতো দিনে পোশাক যখন কোটি মানুষের সামনে আসে, তখন সেটি একটা দৃশ্যমান বার্তায় পরিণত হয়। ভারতের ঐতিহ্য আধুনিকতার সঙ্গে এগিয়ে চললেও নিজের শিকড়কে ভুলে যায়নি এই ভাবনাটাই যেন ফুটে ওঠে।

স্বাধীনতার দিনে লালকেল্লার মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই শিরোসজ্জা যেন মনে করিয়ে দেয় ভারত শুধু একটি দেশ নয়, অসংখ্য রং, সংস্কৃতি আর মানুষের মিলিত এক আবেগ। আর সেই আবেগই কখনও কখনও কথা বলে পোশাকের ভাষায়।এ যেন শুধু মাথায় ওঠা একটি পাগড়ি নয়, দেশের মাটির সঙ্গে যোগের এক প্রতীক। লাল বাঁধনির নকশায় ভারতের ঐতিহ্যকে সামনে এনে মোদী যেন মনে করিয়ে দিলেন আধুনিকতার পথে যতই এগিয়ে যাই, নিজের শিকড়কে কখনও ভুলে যাওয়া যায় না।

স্বাধীনতার মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন বার্তা সত্যিই আলাদা করে নজর কাড়ে। দেশের সংস্কৃতি, কারিগরের পরিশ্রম আর বহুত্বকে পোশাকের মধ্যেই তুলে ধরার এই ভাবনাকে কুর্নিশ করতেই হয়। কারণ কখনও কখনও একটি পোশাকও কোটি মানুষের সামনে দেশের গল্প বলে যেতে পারে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *