কলকাতা হাইকোর্টে ছিল সইজাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের করা আবেদনের শুনানি৷ অভিষেকের রক্ষাকবচ মামলা করছিলেন কল্যাণ ও তাঁর ছেলে শীর্ষাণ্য। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এদিনের বক্তব্য, গতকাল রাত ১২টা ৩০ মিনিটে জানানো হয় মামলা করার দরকার নেই৷ তারপরে আজ অন্য আইনজীবীকে নিয়োগ কেন?
গত কয়েক দিনে তৃণমূলের যত জন সাংসদ, বিধায়ক ‘বিদ্রোহী’ হয়েছেন, সকলেই এক সুরে দুষেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কাকলি ঘোষদস্তিদার থেকে সুখেন্দুশেখর রায়, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সন্দীপন সাহা, সকলেই নিশানা করেছেন তাঁকে। তবে সতীর্থরা সরব হলেও খাতায় কলমে নেত্রীর হয়ে বিরোধীদের জবাব দিয়েছেন সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তার গলাতেও অন্য সুর!
কল্যাণ বলেছেন, ‘lপিটিশন ফাইল হচ্ছে আমায় জানানো হচ্ছে না। বলা হচ্ছে ওপর থেকে নির্দেশ আছে। আমায় ডাস্টবিনের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিষেকের ঔদ্ধত্য, খারাপ ব্যবহার সব কিছু ধ্বংস করেছে।একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছেন, ‘এখানে কাজ করা আমার পক্ষে অসম্ভব। মমতাদিকে ঠিক করতে হবে উনি অভিষেককে চান, না আমায় চান। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলা ছাড়া তৃণমূলের অন্য মামলা লড়ব।
একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য করতে থাকেন কল্যাণ! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য তাঁকে চোর স্লোগান পর্যন্ত শুনতে হয়েছেন বলে দাবি করেছেন কল্যাণ। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, ‘অভিষেকের এই সিআইডি তদন্তের মামলা রিভিশনের জন্য আমি ফাইল করেছিলাম। শুক্রবার সারাদিন বসে রইলাম, মামলা হল না। আমি শেষে মেনশন করায় জজসাহেব বললেন বুধবার মামলা হবে। দিল্লি গিয়েছিলাম, মঙ্গলবার ফিরলাম। দিদির বাড়িতে গেলাম। সিআইডি অফিসারদের সঙ্গে কথা বললাম। বুধবার সকালে কৌশিক চন্দের ঘরে মামলা করলাম। মেনশন করে আর্জেন্সি বললাম। সেখানে অবৈধ সার্চের কথাও বললাম। সাড়ে ১২টা-১টার সময় এক আইনজীবী বললেন, অভিষেক পাঠিয়েছেন। আমি বললাম, একবারও কথা বলা হল না। ৪৫ বছর ধরে এই পেশায় রয়েছি। আমার জুনিয়রকে দিয়ে মামলা করাতে বলছে আমাকে অ্যাসিস্ট করতে বলছে। এটা হয়। রাত সাড়ে বারোটায় বলছে আমাকে দরকার নেই। অয়ন ভট্টাচার্য মামলা করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন , রাজ্যে শোচনীয় পরাজয়ের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটল এবার একেবারে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিল। দলের অন্যতম হেভিওয়েট সাংসদ এবং সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সেনাপতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবার সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, খোদ দলনেত্রীকে চরম বার্তা দিয়ে শ্রীরামপুরের সাংসদ সাফ জানিয়ে দিলেন, এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছে নিতে হবে তিনি ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকবেন, নাকি তাঁর কারণে ক্ষুব্ধ দলের পুরনো ও বিশ্বস্ত নেতাদের পাশে দাঁড়াবেন!