Former Trinamool MLA makes explosive revelations about a secret partnership in Tulu Mondal's extortion racket!

টুলু মণ্ডলের তোলাবাজির গোপন অংশীদারিত্ব নিয়ে এবার বিস্ফোরক প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক !

তোলাবাজির কাটমানি আর সিন্ডিকেট রাজ নিয়ে রাজ্যের আমজনতার যে ক্ষোভ ছিল, এবার সেই একই অভিযোগে শাসক দলের মুখোশ শতখণ্ড করে টেনে খুলে দিলেন তৃণমূলেরই কান্দির প্রাক্তন বিধায়ক অপূর্ব সরকার! রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং প্রাক্তন যুবনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি টেনে তিনি যে বিস্ফোরক দাবি করেছেন, তাতে রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল ভূমিকম্প তৈরি হয়েছে। প্রাক্তনের চাঞ্চল্যকর দাবি— অনুব্রত ঘনিষ্ঠ টুলু মণ্ডলের অবৈধ তোলাবাজির খবর নবান্ন থেকে কালীঘাট, এমনকি ক্যামাক স্ট্রিটের দফতর পর্যন্ত পুরোপুরি জানত। কিন্তু জেনেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, কারণ এই তোলাবাজির লভ্যাংশ এবং অংশীদারিত্ব সরাসরি পৌঁছে যেত শীর্ষ নেতৃত্বের পকেটে!

নিজের অভিযোগের সপক্ষে প্রমাণ দিতে গিয়ে অপূর্ব সরকার জানিয়েছেন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুর্শিদাবাদ জেলা সফরে এসেছিলেন, তখন স্বয়ং তৎকালীন মুখ্যসচিবের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তোলাবাজির এই দৌরাত্ম্যের কথা জানানো হয়েছিল। পাশাপাশি ক্যামাক স্ট্রিটের দলীয় অফিসেও বিষয়টি একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে তোলা হয়। কিন্তু কোনো এক রহস্যজনক কারণে তোলাবাজি বন্ধ হওয়া তো দূর, উল্টে সাধারণ পরিবহন ব্যবসায়ী ও মানুষের ওপর অত্যাচার আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। প্রাক্তন বিধায়কের সোজাসাপ্টা তোপ— তোলাবাজি বন্ধ হয়নি কারণ, এই কাটমানির টাকায় ভাগ বসিয়েই দলের প্রভাবশালী নেতারা চার্টার্ড বিমানে ওড়ার চরম বিলাসিতা উপভোগ করতেন!

অভিযোগের তির এখানেই থেমে থাকেনি। জেলা সভাপতি হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে প্রাক্তন বিধায়ক জানান— নিচুতলার সাধারণ কর্মীদের নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে দলের কাজ করতে হলেও, তোলাবাজির লভ্যাংশের সিংহভাগ চলে যেত শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। ফলে বছরের পর বছর ধরে কালীঘাট ও ক্যামাক স্ট্রিটের ছত্রছায়ায় যে বিরাট সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল, তারই পর্দাফাঁস হয়ে গেল এই বিস্ফোরক বয়ানে। সাধারণ মানুষের ওপর তোলাবাজির বোঝা চাপিয়ে নিজেদের বিলাসিতা কায়েম রাখা আর দুর্নীতির এই অবাধ ছাড়পত্রই যে তৃণমূলের পতনের অন্যতম কারণ ছিল, প্রাক্তন বিধায়কের এই বক্তব্যই কিন্তু তা হাতেনাতে প্রমাণ করে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *