সন্ত্রাসে মদত দিলে ফল ভুগতে হবে!পাকিস্তানকে কড়া বার্তা রাষ্ট্রপতির

 

রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান যে এখন আরও কঠোর, সেই বার্তা। শুধু জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নয়, যারা পিছন থেকে মদত দেয়, তাদেরও দায়ের আওতায় আনার কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ সীমান্তের ওপার থেকে সন্ত্রাস ছড়িয়ে দিয়ে সরাসরি যুদ্ধে না গিয়েও চাপ তৈরি করার পুরনো কৌশলকে আর সহজে মেনে নেবে না ভারত।অপারেশন সিঁদুরের উল্লেখও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। এই অভিযানের মাধ্যমে ভারত দেখাতে চেয়েছে, সন্ত্রাসী হামলার জবাব শুধু কূটনৈতিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রয়োজন হলে সীমান্তের ওপারে থাকা সন্ত্রাসের পরিকাঠামোর বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হতে পারে। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য সেই নীতিকেই আরও একবার রাজনৈতিক ও জাতীয় স্তরে সামনে আনল।

 

এদিন রাষ্ট্রপতি মুর্মুর ভাষণে উঠে আসে সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ। তাঁর কথায়, ‘‘সন্ত্রাসবাদী ও তাদের সহায়করা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক না কেন, এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।” তিনি উল্লেখ করেন অপারেশন সিঁদুর সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিখুঁত আঘাত হানার ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনার শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘‘সিঁদুর দেখেছে বিশ্ব। সন্ত্রাস মেনে নেওয়া হবে না। সেনাকে স্যালুট।”

 

এই বক্তব্যে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সন্ত্রাসকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে না ভারত। জঙ্গি হামলার পিছনে কারা রয়েছে, কারা তাদের সাহায্য করছে এবং কোথা থেকে সেই মদত আসছে, সেটাও এখন ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ। তাই রাষ্ট্রপতির বার্তাটি আসলে মদতদাতাদের উদ্দেশেও সরাসরি সতর্কবার্তা।সিন্ধু জলচুক্তির প্রসঙ্গ ওঠায় বিষয়টি আরও বড় মাত্রা পেয়েছে। জল শুধু মানবিক প্রয়োজন নয়, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত বিষয়। ফলে সন্ত্রাসের সঙ্গে জলচুক্তির প্রসঙ্গ একই বক্তব্যে আসা পাকিস্তানের উপর ভারতের সামগ্রিক চাপের পরিধি কতটা বিস্তৃত, সেটাও বুঝিয়ে দেয়।
তবে ভারতের অবস্থানকে শুধু পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর বক্তব্য হিসেবে দেখলে বিষয়টি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এর মধ্যে দেশের সাধারণ মানুষ এবং সেনার প্রতি আস্থার বার্তাও রয়েছে। স্বাধীনতার প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে মূল সুর হল দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নেবে এবং সন্ত্রাসের সামনে পিছিয়ে যাবে না।

গত কয়েক দশকে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে থেকেছে সীমান্তপারের সন্ত্রাস। আলোচনা হয়েছে, কূটনৈতিক উদ্যোগ হয়েছে, কিন্তু হামলা থামেনি। সেই অভিজ্ঞতার পর ভারতের বর্তমান অবস্থান অনেক বেশি জবাব দেওয়ার নীতিনির্ভর। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য সেই পরিবর্তিত মানসিকতাকেই সামনে নিয়ে এল।
সব মিলিয়ে, স্বাধীনতা দিবসের আগে রাষ্ট্রপতির বার্তা শুধু পাকিস্তানকে সতর্ক করা নয়, ভারতের নিরাপত্তা নীতির একটি দৃঢ় অবস্থানও তুলে ধরে। বার্তাটি পরিষ্কার সন্ত্রাসের মদত, প্রশ্রয় বা উসকানি কোনওটাই আর বিনা জবাবে থাকবে না। ভারত শান্তি চায়, কিন্তু সেই শান্তিকে দুর্বলতা হিসেবে দেখলে তার জবাবও কঠোর হতে পারে।

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে রাষ্ট্রপতির ভাষণের শুরুতেই উঠে এল বন্দেমাতরমের ধ্বনি! এছাড়াও এদিন তাঁর ভাষণে দেশের যুবসমাজ, পরীক্ষা, কৃষিজীবীদের বিষয়গুলি প্রাধান্য পেয়েছে।সাথে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। দেশের সীমানা সুরক্ষা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান সার্বভৌম অবস্থান নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *