দেখলেই গ্রেফতার!অভিষেক ঘনিষ্ঠ কয়লা মাফিয়া বিনয়ের বিরুদ্ধে ‘ওপেন ওয়ারেন্ট’ CBI-র

কয়লা পাচার মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত বিনয় মিশ্রের বিরুদ্ধে এবার ‘ওপেন ওয়ারেন্ট’ ঘিরে চাঞ্চল্য। রাজ্যে সরকারের পালাবদলের পরপরই এই মামলার তদন্তের দায়ভার নিয়ে কার্যত হ্যাপা পোহাতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে। মামলার মূল অভিযুক্ত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক ঘনিষ্ঠ বিনয় মিশ্র। সূত্রের খবর, পালাবদলের পরপরই বিদেশে পালিয়ে আত্মগোপন করে রয়েছেন তিনি। তবে এবার দেখলেই তাঁকে গ্রেফতার করা হবে। এমনকি আজীবন এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলেই জানানো হয়েছে।

কোনও অভিযুক্ত দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকলে এবং তাঁকে গ্রেফতার করা সম্ভব না হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ধরনের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। এই ক্ষেত্রে অভিযুক্তকে সামনে পাওয়া গেলে গ্রেফতারের প্রক্রিয়া অনেকটাই সরাসরি হয়ে যায়। কয়লা পাচার মামলায় বিনয় মিশ্রের নাম বহুদিন ধরেই তদন্তের কেন্দ্রে। অভিযোগ, মামলায় তাঁর নাম উঠে আসার পরই তিনি দেশ ছেড়ে বিদেশে চলে যান। এরপর তাঁকে গ্রেফতার করতে একাধিক আইনি পদক্ষেপ করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

জানা গিয়েছে, বর্তমানে ভানুয়াতুতে থাকার দাবি রয়েছে বিনয় মিশ্রকে ঘিরে। অভিযোগ আরও রয়েছে, সেখানকার পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি দুবাই, লন্ডন-সহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করেছেন। বিনয় মিশ্র যদি সত্যিই ভারতের বাইরে থাকেন, তাহলে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ভারত ও সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হবে, সেটাই এখানে বড় বিষয়।

তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তের হদিস না মেলায় তাঁকে গ্রেফতারের আইনি প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। দিল্লির আদালতে সিবিআই-এর আবেদনের পর এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। বিনয় মিশ্র যদি কখনও ভারতে ফেরেন, অথবা এমন কোনও দেশে প্রবেশ করেন যেখানে ভারতীয় সংস্থার আইনি পদক্ষেপ কার্যকর হতে পারে, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা গ্রেফতারি সংক্রান্ত নির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

আর এখানেই তৈরি হচ্ছে রাজনৈতিক চাপও।
কারণ কয়লা পাচার মামলা শুধু আর্থিক দুর্নীতির তদন্তে সীমাবদ্ধ নেই। এই মামলাকে ঘিরে রাজ্যের শাসকদলের একাধিক নেতার নাম নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। বিনয় মিশ্রের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগও রাজনৈতিক বিতর্কের অন্যতম বিষয়। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন একটাই—বিদেশে থাকা বিনয় মিশ্রকে কি শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরিয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেফতার করতে পারবে সিবিআই? ‘ওপেন ওয়ারেন্ট’ যদি কার্যকর আইনি হাতিয়ার হিসেবে সামনে আসে, তাহলে বিনয় মিশ্রের জন্য পরিস্থিতি নিঃসন্দেহে আরও কঠিন হতে পারে। তবে এতে তৃণমূল নেতা যে আরও বিপাকে পড়লেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *