জেন জি-র মন বুঝতে এবার ডিজিটাল দুনিয়ায় জোর বঙ্গ বিজেপির। সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে সোশাল মিডিয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের। লক্ষ্য শুধু দলের ‘কমিটেড ভোটার’ নয়, নতুন ভোটার এবং আগামী দিনে ভোটার হতে চলা তরুণ প্রজন্মও। রবিবার নিউটাউনের কনভেনশন সেন্টারে বসেছিল বিজেপির রাজ্য প্রশিক্ষণ শিবির। প্রশিক্ষকের ভূমিকায় ছিলেন দলের সর্বভারতীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সংগঠন শিবপ্রকাশ, রাজ্যের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনশল, রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা এবং রাজ্য সম্পাদক সংগঠন অমিতাভ চক্রবর্তী।
শিবিরে স্পষ্ট বার্তা, রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজের প্রচার আরও বেশি করে করতে হবে সোশাল মিডিয়ায়। সেই প্রচার পৌঁছে দিতে হবে জেলা স্তর পর্যন্ত। আর শুধু প্রচার করলেই হবে না, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তা আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে হবে। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে দলকে এগোতে হবে বলেই বার্তা সুনীল বনশলদের। সময়ের সঙ্গে বদলানো প্রযুক্তিকে গ্রহণ করে সাংগঠনিক কাজ আরও গতিশীল করার নির্দেশ। তবে প্রযুক্তি বদলালেও দলের নীতি-আদর্শের সঙ্গে আপস নয়, সেটাও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
শুধু ডিজিটাল প্রচার নয়, নেতাদের জনসংযোগের উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত নেতা মানে শুধু মঞ্চে উঠে বক্তৃতা দেওয়া নয়। যেখানে কেউ নেই, সেখানেও পৌঁছে যেতে হবে। প্রত্যন্ত এলাকায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে কার্যকর্তাদের। হতে হবে সংবেদনশীল, নম্র এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। এবার নজর জেলা স্তরের প্রশিক্ষণে। আগামী ২২ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় জেলায় হবে প্রশিক্ষণ শিবির। মণ্ডল ও রাজ্য স্তরের পর এবার জেলা স্তরে সংগঠনকে আরও প্রস্তুত করার পালা। জেলা স্তরে প্রশিক্ষণ দেবেন প্রায় ৩৫০ জন প্রশিক্ষক। তাঁদেরও রবিবার নিউটাউনে প্রশিক্ষণ দিয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য নেতৃত্ব। মোট দশটি বিষয়ে দেওয়া হয়েছে প্রশিক্ষণ।
অর্থাৎ ভোটের ময়দানে এবার শুধু পোস্টার-ব্যানার নয়, লড়াইটা হবে ডিজিটাল পর্দাতেও। এআইয়ের কনটেন্ট, সোশাল মিডিয়ার প্রচার আর নতুন ভোটারদের কাছে পৌঁছনোর কৌশল এই ত্রিফলা নিয়েই ২০২৬-এর আগে সংগঠনকে নতুন করে সাজাতে চাইছে বঙ্গ বিজেপি।