রাজ্যে নতুন শাসনকালের প্রথম ১০০ দিন পার হতে না হতেই, আগামীর পরিকল্পনা আর প্রশাসনিক রূপরেখা নিয়ে এক অভূতপূর্ব মেগা রোডম্যাপ সামনে এল! একটি বিশেষ সংবাদমাধ্যমের কনক্লেভে উপস্থিত হয়ে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী খোলামেলাভাবে তুলে ধরলেন তাঁর সরকারের অগ্রাধিকার ও ‘টু-ডু’ লিস্ট।
প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই মুহূর্তে রাজ্যের এক নম্বর কাজ হলো সীমান্ত ও দেশের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিগত সরকারের আটকে রাখা সীমান্ত জমি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের সংবেদনশীল ৭টি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ৬১টি রেল প্রকল্পের জমিজমা সংক্রান্ত জট দ্রুত ছাড়ানোর কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। কল্যাণীতে ২ হাজার একর জমি চিহ্নিত করে নতুন বিমানবন্দর গড়ার উদ্যোগ থেকে শুরু করে ‘উড়ান’ প্রকল্পে যুক্ত হওয়া— পরিকাঠামোগত উন্নয়নে দ্রুত বদল আনাই এখন সরকারের লক্ষ্য।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প— যেমন আয়ুষ্মান ভারত, প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা কিংবা সূর্যঘর যোজনা এখন থেকে সরাসরি পৌঁছে যাবে বাংলার আমজনতার কাছে। ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের অধীনে ইতিপূর্বে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষেরও বেশি যোগ্য মহিলার অ্যাকাউন্টে আর্থিক সুবিধা পৌঁছানো হয়েছে। প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়েছে, তথ্যের স্বচ্ছতা বজায় রেখে কেবল প্রকৃত ও যোগ্য আবেদনকারীদের কাছেই রাজ্য ও কেন্দ্রের প্রতিটি স্কিমের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে।
শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে স্কুল সার্ভিস কমিশন ও পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাথায় আনা হয়েছে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অভিজ্ঞ আধিকারিকদের। শিল্পায়ন, ব্যাপক নতুন নিযোগ ও যুবক-যুবতীদের স্বনির্ভর করার জন্য একাধিক স্তরে পরিকাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে পাশাপাশি, রাজ্যকে আর্থিক দেউলিয়া দশা থেকে বাঁচাতে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা কমিটি। বিগত জমানায় শিল্পের নীতিগত ভুল এবং বিদায়ের ঠিক আগে নেওয়া অপরিনামদর্শী সিদ্ধান্তগুলি খতিয়ে দেখতে প্রকাশ করা হবে শ্বেতপত্র।
সব শেষে, এক শানিত ও বিনম্র সুরে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন— বিগত জমানার মতো “আমিই সব জানি” মানসিকতা নয়, বরং রাজ্যকে আবারও দেশের অন্যতম সেরা সংস্কৃতি ও শিল্পকেন্দ্রে রূপান্তর করতে তিনি সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে স্বচ্ছতার সাথে কাজ করতে চান।