আসন্ন ডিসেম্বরেই আয়োজন হতে চলেছে তিলোত্তমা কলকাতার বহু প্রতীক্ষিত পুর নির্বাচন। আর এই মেগা ভোটের দামামা বাজতেই রাজনীতির অলিন্দে উত্তাপ চড়তে শুরু করেছে। কলকাতা পুরসভা নির্বাচনের দলীয় দায়িত্ব বা ‘ইনচার্জ’-এর আসন গ্রহণ করেই বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা প্রবীণ বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার। বুধবার আয়োজিত এক হাই-ভোল্টেজ সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করেন— এই পুরসভার নিজস্ব লোগোতেই জড়িয়ে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী পদ্ম ও স্বস্তিক চিহ্ন, আর সেই ঐতিহ্যকে সম্মান জানিয়েই এবার কলকাতা পুরসভার মেয়রের চেয়ারে বসতে চলেছেন কোনো এক খাঁটি ‘সনাতনী মেয়র’!
প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটের কথা বলতে গেলে, সম্প্রতি রাজ্যে শাসনব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের পর পুরসভার মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। বর্তমানে স্মিতা পাণ্ডের নেতৃত্বে চলছে পুরসভার প্রশাসনিক কাজ। তবে এবার পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পুরসভার দখল নিতে সবরকম পরিকাঠামোগত প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। কতগুলি ওয়ার্ড নিজেদের পকেটে পুরতে চলেছে বিজেপি? এই প্রশ্নের উত্তরে সুকান্ত মজুমদার পরিসংখ্যান টেনে জানান— ইতিপূর্বে সম্পন্ন হওয়া বিধানসভা নির্বাচনের ফলের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, কলকাতার ১৪৪টি প্রাচীন ওয়ার্ডের মধ্যে ১০১টি ওয়ার্ডেই বিরোধীদের ধুলিসাৎ করে এগিয়ে ছিল বিজেপি। আর বর্তমানের নতুন পুনর্গঠিত ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ১৭০ থেকে ১৮০টি আসনে বিজেপি এককভাবে জয়লাভ করবে বলে তিনি দৃঢ় দাবি জানান।
শুধু বড় বড় জয় বা টার্গেটের কথাই নয়, প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশিকা পেশ করেছেন ইনচার্জ সুকান্ত মজুমদার। তিনি জানান, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি, সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব এবং দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা নিষ্ঠাবান কর্মীদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রার্থী তালিকা তৈরি করতে একটি বিশেষ ‘এসওপি’ বা নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রার্থী তালিকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
তবে এরই মাঝে দলের ভেতরের ‘অতি-উৎসাহী’ নেতাদের উদ্দেশে এক শানিত ও কঠোর বার্তা দিয়ে রেখেছেন সুকান্ত। তিনি স্পষ্ট সতর্ক করে বলেন— আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশের আগে কেউ যদি নিজেকে আগাম প্রার্থী ভেবে আত্মতুষ্টিতে ভোগেন, তবে পরে তাঁকে মারাত্মক আফসোস করতে হবে এবং কেঁদে ভাসাতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য দল থেকে নেতা ভাঙানোর ক্ষেত্রে ‘ভালো আর কালোর’ রাজনীতিকে এড়িয়ে চলার পথই বেছে নিয়েছে দল। ঐতিহ্যবাহী কলকাতার হারিয়ে যাওয়া হৃতগৌরব আবার ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য বলে দাবি তাঁদের।