তিলোত্তমার পুজোয় এবার ‘কমলা’ পোশাকে নামছেন ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক!কিন্তু কলকাতা পুলিশের লোগো আর মাথায় কমলা টুপি বদলের পিছনে কারণ কী?

শারদোৎসবের আনন্দ উদযাপনে তিলোত্তমার প্রতিটি রাস্তায় যখন আছড়ে পড়বে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর জনস্রোত, তখন শহরের ট্রাফিক ও ভিড় সামলানোর চেনা দৃশ্যপটে এবার দেখা যেতে চলেছে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন! অতীতে দুর্গাপূজার ডিউটিতে সাধারণ হাফ হাতা টি-শার্ট পরে পুলিশ বাহিনীকে সাহায্য করতে দেখা যেত যে স্বেচ্ছাসেবকদের, এবার তাঁদের জন্য এক সম্পূর্ণ নতুন ও নজরকাড়া রূপরেখা তৈরি করল কলকাতা পুলিশ। সমস্ত পুরনো প্রথা ভেঙে এবার পুজোয় ‘কমলা’ রঙের পোশাকে সেজে রাস্তায় নামতে চলেছেন প্রায় ২০ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক। আর এই বিশাল সংখ্যক ভলান্টিয়ারদের উন্নত মানের পোশাক ও টুপির জন্য লালবাজারের তরফে এককালীন বরাদ্দ করা হয়েছে প্রায় ৮৯ লক্ষ টাকা!

অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে মহোৎসব। চতুর্থী থেকে শুরু করে বিজয়া দশমী এবং পরবর্তী বিসর্জনের পর্ব পর্যন্ত দিনরাত এক করে ডিউটি সামলান কলকাতা পুলিশের আধিকারিক, কর্মী, হোমগার্ড এবং সিভিক ভলান্টিয়াররা। কিন্তু ভাঙড় থেকে শুরু করে খাস কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সবচেয়ে বড় ভরসার হাত হয়ে ওঠেন এই স্বেচ্ছাসেবকরাই। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, এনসিসি ক্যাডেট এবং স্থানীয় ক্লাবের উদ্যমী সদস্যদের নিয়ে গড়ে তোলা হয় এই বিশেষ বাহিনী। মহালয়ার পরই সংশ্লিষ্ট পুলিশ ডিভিশনে তাঁদের দেওয়া হয় পেশাদার নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের নিবিড় প্রশিক্ষণ।

এবার সেই স্বেচ্ছাসেবকদের ডিউটিকে আরও মর্যাদাপূর্ণ ও আরামদায়ক করে তুলতে পুজো শুরুর প্রায় এক মাস আগেই পোশাকের নকশা চূড়ান্ত করেছে লালবাজার। জানা গিয়েছে, টানা রোদে বা গরমে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাতে কোনো অস্বস্তি না হয়, তার জন্য বিশেষ কলার-সহ ফুল হাতা এই পোশাকের ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে। থাকছে দুই ধরনের কমলার শেড— ১২ হাজার গাঢ় কমলা এবং ৮ হাজার হালকা কমলা রঙের জামা। প্রতিটি পোশাকের সামনের দিকে সাদা হরফে শোভা পাবে কলকাতা পুলিশের ঐতিহ্যবাহী লোগো। বুকে ছোট করে এবং পিঠের অংশে বড় স্পষ্ট অক্ষরে লেখা থাকবে ‘কলকাতা পুলিশ ভলান্টিয়ার’। ইউনিফর্মের পূর্ণতা দিতে এই ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের জন্য তৈরি হচ্ছে আকর্ষণীয় কমলা রঙের টুপিও। এই সামগ্রিক উদ্যোগের জন্য পোশাক তৈরিতে ৭৩ লক্ষ এবং টুপির জন্য ১৬ লক্ষ টাকা সরকারি অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন।

এই ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের একটি বড় অংশ কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শহরের রাজপথ সচল রাখার দায়িত্বে থাকবেন। অন্য অংশটিকে মোতায়েন করা হবে উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতার মেগা ও বিগ বাজেটের পুজোমণ্ডপগুলিতে। ঠাকুর দেখার সময়ে দর্শনার্থীরা যাতে সুরক্ষিতভাবে লাইন দিয়ে বের হতে পারেন, ভেতরে যাতে কোনো বিপজ্জনক বিশৃঙ্খলা বা ভিড় জমে পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি না হয়— প্রতিটি পদক্ষেপে তীক্ষ্ণ নজর রাখবেন এই কমলা পোশাকের স্বেচ্ছাসেবকরা। শৃঙ্খলা ও সুরক্ষার অনন্য মেলবন্ধনে শারদোৎসবকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সুসংগঠিত করতেই কলকাতা পুলিশের এই অভিনব উদ্যোগ এক নতুন দিশা দেখাতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *