উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সামনে দাঁড়িয়ে অপরাধীদের নিয়ে এমন এক গল্প শোনালেন জনপ্রিয় স্ট্যান্ড-আপ কমেডিয়ান হর্ষ গুজরাল, যা শুনে হাসি চাপতে পারলেন না খোদ মুখ্যমন্ত্রীও! গল্পের মূল কথা, উত্তরপ্রদেশে নাকি অপরাধীদের জীবনযাত্রায় এসেছে বিরাট পরিবর্তন। যাঁদের একসময় দাপটে এলাকার মানুষ তটস্থ থাকতেন, তাঁরাই এখন অপরাধের রাস্তা ছেড়ে কলা বিক্রির মতো কাজে ব্যস্ত! কথাটা শুনতে যতটা মজার, তার পিছনে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা ।
২৮ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনাটি ঘটে লখনউয়ে আয়োজিত ইউপি ক্রিয়েটর্স সামিট অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর মঞ্চে। ২৭ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে হর্ষ গুজরালকে ‘ক্রিয়েটর অব দ্য ইয়ার’ সম্মানে ভূষিত করেন যোগী আদিত্যনাথ। পুরস্কার গ্রহণের পর মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে হর্ষ এমন কিছু কথা বলেন, যা মুহূর্তেই অনুষ্ঠানের পরিবেশ বদলে দেয়। মুখ্যমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রসিকতা করা সহজ কথা নয়। তবে হর্ষের বলার ভঙ্গি ছিল এমনই সাবলীল যে, গুরুগম্ভীর রাজনৈতিক মঞ্চও যেন কিছুক্ষণের জন্য কমেডির আসরে পরিণত হয়।
হর্ষ প্রথমেই মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গোটা উত্তরপ্রদেশের প্রায় ৩০ কোটি মানুষের দায়িত্ব তাঁর কাঁধে। এত মানুষের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে যে চাপ তৈরি হয়, তা সহজেই অনুমেয়। তাই মুখ্যমন্ত্রী অবসর সময়ে কমেডি দেখেন কি না, সেই প্রশ্নও করেন তিনি। এরপর উত্তরপ্রদেশের জনপ্রিয়তা নিয়ে বলতে গিয়ে হর্ষের দাবি, বিদেশে অনুষ্ঠান করতে গেলেও উত্তরপ্রদেশের নাম শুনে মানুষের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। তাঁর কথায়, এর পিছনে রয়েছে উত্তরপ্রদেশের মানুষ এবং যোগীর পরিচিতি। অর্থাৎ, রাজ্যের পরিচয় যে শুধু অপরাধের খবরেই আটকে নেই, সেটাই মজার ছলে বোঝানোর চেষ্টা করেন তিনি।
এরপরই আসে আসল চমক! হর্ষ জানান, এর আগে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি লখনউয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে একদিন ঘুরতে বেরিয়ে চোখে পড়ে এক কলা বিক্রেতা। ব্যস, কমেডিয়ানের মাথায় তখন প্রশ্ন উত্তরপ্রদেশের অপরাধের পরিস্থিতি এখন কেমন? তাই ওই বিক্রেতাকে সরাসরি জিজ্ঞাসা করে বসেন, ‘ভাই, অপরাধের কী অবস্থা? অপরাধ কি কমেছে?’ সাধারণ কোনও প্রশ্ন নয়, বরং উত্তরপ্রদেশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চলা বিতর্ককেই যেন রাস্তার ধারের কলার দোকানে হাজির করলেন হর্ষ। আর ওই কলা বিক্রেতার উত্তরেই লুকিয়ে ছিল গোটা গল্পের মজা।
হর্ষের বর্ণনা অনুযায়ী, কলা বিক্রেতা নাকি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়ে দেন, উত্তরপ্রদেশে অপরাধ একেবারে শেষ! স্বাভাবিকভাবেই এমন বড় দাবি শুনে হর্ষের পরের প্রশ্ন, ‘আপনি কী করে জানলেন?’ আর তখনই আসে সেই দুর্ধর্ষ উত্তর ‘আমি নিজেই আগে অপরাধী ছিলাম, এখন কলা বিক্রি করছি!’ ব্যস, এখানেই গল্পের মোচড়। যে মানুষটি একসময় অপরাধের জগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হচ্ছে, তিনিই এখন ফলের দোকান চালাচ্ছেন! অর্থাৎ, হর্ষের কৌতুকের যুক্তি মেনে নিলে, অপরাধী ধরতে আর পুলিশের গোয়েন্দা লাগবে না রাস্তার ধারে কলা কিনতে গেলেই হয়তো দেখা হয়ে যাবে!