কখনও কখনও নীরবে কাজ করে যাওয়াই সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি করে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না থেকেও নিজের দায়িত্বে অটল থাকা, সংগঠনের জন্য সময় দেওয়া আর ধাপে ধাপে নিজের জায়গা তৈরি করা মধুছন্দা করের রাজনৈতিক যাত্রাটাও যেন ঠিক এমনই।পেশায় চিকিৎসক। মানুষের সেবা করাই যাঁর পেশাগত দায়িত্ব। সেই ডাক্তারিই সামলেছেন, পাশাপাশি সামলেছেন দলের সাংগঠনিক দায়িত্বও। রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সেলের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু প্রচারের আলো থেকে বরাবরই থেকেছেন অনেকটা দূরে।
এবার সেই নীরব পরিশ্রমেরই যেন স্বীকৃতি মিলল। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনের নতুন টিমে জায়গা করে নিয়েছেন বাংলার মধুছন্দা কর। পেয়েছেন সর্বভারতীয় সহ-সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এক লাফে রাজ্য থেকে জাতীয় রাজনীতির মঞ্চে নিঃসন্দেহে বঙ্গ বিজেপির জন্যও বড় খবর।বাংলা থেকে নবীন টিমে জায়গা পেয়েছেন দু’জন। সাংসদ মনোজ টিগ্গার নাম অনেকেরই পরিচিত। কিন্তু মধুছন্দা করের ক্ষেত্রে চমকটা অন্য জায়গায়। এতদিন যাঁকে দলের অন্দরে কাজ করতে দেখা গিয়েছে, এবার সেই মুখই জাতীয় স্তরে নেতৃত্বের দায়িত্বে।
শুধু তাই নয়, ডাক্তারি কেরিয়ার ঝাঁ চকচকে। উচ্চশিক্ষায় একগুচ্ছ ফেলোশিপ। মারণরোগ ক্যানসারের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই। একাধিক বিষয় ডক্টরেট করেছেন। এই মুহূর্তে তিনি বাইপাসের ধারে নামী বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত। বিশিষ্ট অঙ্কোলজিস্ট হিসেবে কলকাতার চিকিৎসক মহলে এক নামে মধুছন্দা করকে চেনেন সবাই। পাশাপাশি রাজনীতির সংস্পর্শে এসে জনসেবার কাজের সঙ্গেও যুক্ত হয়েছেন ডাক্তার কর। রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি তিনি।
এই উত্থান শুধু একটা পদ পাওয়ার গল্প নয়। এর মধ্যে রয়েছে একজন চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি রাজনীতির ময়দানে সময় দেওয়া, সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা এবং নিজের কাজ দিয়ে ধীরে ধীরে নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করার গল্প। তাই মধুছন্দার এই সাফল্যে আবেগটা একটু বেশি।কারণ বাংলার মাটি থেকে জাতীয় রাজনীতির এত বড় মঞ্চে উঠে আসা সহজ নয়। বিশেষ করে যাঁরা প্রচারের আলোয় থাকার চেয়ে নেপথ্যে থেকে কাজ করতেই বেশি স্বচ্ছন্দ, তাঁদের জন্য এই স্বীকৃতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। মধুছন্দা করের সামনে এবার খুলে গেল আরও বড় পরিসর, আরও বড় দায়িত্ব।
আজ তাই মধুছন্দা কর শুধু একজন চিকিৎসক নন, শুধু রাজ্য বিজেপির সংগঠকও নন। তিনি এখন বিজেপির জাতীয় টিমের অন্যতম মুখ। আড়াল থেকে ফ্রন্টলাইনে উঠে আসা এই বঙ্গকন্যার গল্প তাই নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণার ।কীভাবে নীরব পরিশ্রম একদিন জাতীয় মঞ্চে নিজের জায়গা করে নেয়, মধুছন্দার উত্থান যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ।
