ধর্মীয় শোভাযাত্রার পবিত্রতা ও সামাজিক সম্প্রীতির মাঝেই রাজ্যে হঠাৎ এমন এক নজিরবিহীন দৃশ্য সামনে এল, যা ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়! মিলাদ-উন-নবী উপলক্ষে আয়োজিত মিছিলে ভারতের তেরঙ্গার পাশাপাশি উড়তে দেখা গেল ভিনদেশ অর্থাৎ প্যালেস্তাইনের পতাকা। এই ঘটনা সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিতর্কিত ভিডিও পোস্ট করে অত্যন্ত শানিত ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অত্যন্ত স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করেন যে— বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রতিটি সম্প্রদায়ের ধর্মবিশ্বাস, মতপ্রকাশ এবং সাংস্কৃতিক আচার-অনুষ্ঠানের স্বাধীনতা সুরক্ষায় পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কিন্তু পবিত্র ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে মাধ্যম বানিয়ে যদি কোনো বহিরাগত রাজনৈতিক প্রচার চালানো হয় কিংবা সামাজিক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করা হয়, তবে তার বিরুদ্ধে প্রশাসন গ্রহণ করবে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি।
ইতিমধ্যেই অননুমোদিত ভিনদেশি পতাকা বাজেয়াপ্ত করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর দায়ের করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করায় ইসলামপুর জেলা পুলিশকে ধন্যবাদ ও প্রশংসা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্যজুড়ে কেবল দুটি এমন বিতর্কিত পতাকা বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হয়েছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠান হওয়া উচিত কেবল ভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বাসের প্রতীক, কোনো বিদেশি ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ কিংবা বিভাজনমূলক প্রচারের আখড়া নয়।
বিগত তৃণমূল জমানাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন— পূর্ববর্তী সরকারের তোষণনীতির কারণেই এই ধরণের বিপজ্জনক প্রবণতা বাংলায় একপ্রকার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। তবে জাতীয় মর্যাদা ও আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করে তোষণ করার সেই পুরনো যুগ এখন পুরোপুরি শেষ। বর্তমান বিজেপি সরকারের অধীনে একদিকে যেমন ধর্ম পালনের অধিকার পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই আইনের কড়া প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। সার্বিকভাবে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ যেভাবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় উৎসব পরিচালনা করেছে, তার জন্য পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন তিনি।
