যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে গত কয়েকদিন ধরে বাম ছাত্র সংগঠন ও এবিভিপির মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উত্তপ্ত ছিল রাজ্য রাজনীতি, আর যেখানে স্বয়ং নন্দলাল বসুর তৈরি ঐতিহাসিক শতদল এমব্লেম ভাঙচুরের মতো অনভিপ্রেত ঘটনা সামনে এসেছে— সেই যাদবপুরের বুকেই এবার হতে চলেছে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রবাদী কর্মসূচির সূচনা! কিন্তু কীভাবে এবং কার নেতৃত্বে রচায়িত হতে চলেছে এই নতুন অধ্যায়?
আগামী ২৯শে আগস্ট, শুক্রবার বিকেলে যাদবপুর ৮ বি বাসস্ট্যান্ড এলাকাকে বেছে নিয়ে এক মেগা কর্মসূচির ডাক দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আর কোনো রাজনৈতিক স্লোগান নয়, বরং ঠিক বিকেল সাড়ে তিনটের সময় একযোগে ১০ হাজার কণ্ঠে সমবেত সুরে গাওয়া হবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম্’! যাদবপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে স্বয়ং প্রধান অতিথি ও নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী।
হঠাৎ কেন যাদবপুরকে কেন্দ্র করে এই বিশেষ পদক্ষেপ? সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ঘটে যাওয়া গোলমাল এবং ঐতিহ্যবাহী জাতীয় পতাকার অবমাননা প্রসঙ্গে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছিলেন— “যাদবপুরের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এতদিন ধরে যারা জাতীয় পতাকা উড়তে দেয়নি, বন্দে মাতরম্ গাইতে বাধা দিয়েছে কিংবা সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর প্রশাসনিক পদক্ষেপে বাধা সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। সংবাদমাধ্যম কিংবা বিরোধীরা যতই আহা-উহু করুক না কেন, এই সরকার নিজের কঠোর অবস্থান থেকে একচুলও সরবে না।”
মঞ্চ থেকে তিনি আরও স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন— শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও স্বপ্ন পূরণের পথেই এগিয়ে চলেছে বর্তমান রাজ্য প্রশাসন। সনাতন সংস্কৃতি, তেরঙ্গা জাতীয় পতাকা, বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দে মাতরম্ কিংবা দক্ষিণেশ্বর, কালীঘাট ও তারকেশ্বরের আস্থার ঐতিহ্যের সাথে সরকার কোনো রাজনৈতিক সমঝোতা করবে না। ফলে শুক্রবারের এই ১০ হাজার মানুষের কণ্ঠে বন্দে মাতরম্ পরিবেশন কেবল একটি সাধারণ সাংস্কৃতিক কর্মসূচি নয়, বরং যাদবপুরের মাটিতে জাতীয়তাবাদের বীজ আরও মজবুত করার এক খোলা চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
