modi and shah

মোদী-শাহের একচ্ছত্র রা*জত্বে বড়সড় ফা*টল! তিনটি উপনির্বাচনে ভরাডুবির পর বিজেপি শিবিরে এবার ‘ভরসা আউট, ভয় ইন’!

দেশের তিন বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনের ফলাফল ঘিরে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। বিহারের বাঁকিপুর, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া এবং গুজরাতের মঞ্জলপুর—তিনটি আসনের ফল সংখ্যার বিচারে বিজেপির জন্য জাতীয় স্তরের বিপর্যয় নয়। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষণে এই ফলাফলকে দলের অন্দরের পরিস্থিতি এবং ভোটারদের মনোভাব বোঝার গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে বিহারের বাঁকিপুর। দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে দলের পরাজয়কে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, মাত্র কয়েক মাস আগেও বিহারে বিজেপি সরকারের উন্নয়নমূলক কাজকে রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম বড় হাতিয়ার করা হয়েছিল। সেই রাজ্যের রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ একটি আসনে বিজেপির পরাজয় তাই দলের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রদেশের দাতিয়াতেও বিজেপির পরাজয়ের পিছনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। প্রার্থী বাছাই নিয়ে দলের ভিতরে মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে গুজরাতের মঞ্জলপুরে বিজেপি জয় পেলেও ব্যবধান খুব বেশি না হওয়ায় সেটিকেও পুরোপুরি স্বস্তির ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে না।
এই তিন ফলাফলের পাশাপাশি বিজেপির অন্দরে নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রবণতাও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন ধরে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নেতৃত্বে বিজেপিতে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের প্রভাব ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। কিন্তু সাম্প্রতিক কিছু ঘটনায় প্রার্থী বাছাই এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে শুধু দলীয় কোন্দল নয়, ভোটের অঙ্কে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে—যুবসমাজের মনোভাব। চাকরির অভাব, উচ্চশিক্ষার পর কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, মূল্যবৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তরুণদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। এই অসন্তোষ যদি ক্রমশ রাজনৈতিক ভোটে প্রতিফলিত হয়, তাহলে বিজেপির জন্য তা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২০১৪ সালে মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির উত্থানের পিছনে দুর্নীতি, মূল্যবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সংকটের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। সেই সময় উন্নয়ন ও পরিবর্তনের প্রত্যাশায় বিপুল জনসমর্থন তৈরি হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে সমর্থনের পাশাপাশি বিরোধিতাও তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনের প্রসঙ্গও এই আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি না পাওয়া শিক্ষিত তরুণদের হতাশা থেকে যে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে, তা সামাজিক আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
তবে তিনটি উপনির্বাচনের ফল দিয়ে বিজেপির জাতীয় রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো সম্ভব নয়। বিজেপি এখনও দেশের বহু রাজ্যে শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছে। কিন্তু দলের শক্ত ঘাঁটিতে অপ্রত্যাশিত ফল, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং যুব ভোটারদের মনোভাব—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ফলে রাজনৈতিক মহলে এখন আলোচনার বিষয় একটাই—এ কি কেবল কয়েকটি উপনির্বাচনের বিচ্ছিন্ন ফল, নাকি বিজেপির দীর্ঘদিনের ‘ভরসা’-নির্ভর রাজনীতিতে সত্যিই অস্বস্তির সূচনা? উত্তর দেবে আগামী নির্বাচনের ফলই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *