দাসত্বের প্রতীক মুছে বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও গৌরবময় ইতিহাসকে ফিরিয়ে আনতে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। কলকাতার বড় বড় সরণি থেকে শুরু করে গ্রামীণ বাংলার রাস্তাঘাট—এবার থেকে প্রতিটি নামের পেছনে থাকবে বাংলার সত্যিকারের ঐতিহ্য, ধর্ম ও সংস্কৃতির ছোঁয়া। আর এই মেগা কমিটির ব্যাটন তুলে দেওয়া হয়েছে ভারত সেবাশ্রম সঙ্ঘের প্রখ্যাত সনাতনী ব্যক্তিত্ব, পদ্মশ্রী স্বামী প্রদীপ্তানন্দ ওরফে কার্তিক মহারাজের হাতে। শুক্রবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের জারি করা নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যজুড়ে রাস্তা বা সেতুর নাম পরিবর্তন এবং নতুন নামকরণের যে সমস্ত প্রস্তাব জমা পড়বে, তা সুনির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। যেখানে কার্তিক মহারাজের পাশাপাশি এই কমিটিতে রয়েছেন প্রবীণ রাষ্ট্রবাদী ব্যক্তিত্ব তথা প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়। এছাড়াও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে কমিটিতে রাখা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য পরামর্শদাতা সুব্রত গুপ্ত, স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের প্রধান সচিব, তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তর এবং পূর্ত দপ্তরের সচিবদের। সাথে আছেন কলকাতা পুরসভার মিউনিসিপ্যাল কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের সচিব এবং ডক্টর বিষ্ণুপদ দত্ত। আর প্রশাসনিক কাজের সমন্বয় সামলাবেন নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক দপ্তরের যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।
নয়া এই কমিটি কীভাবে কাজ করবে? নবান্ন সূত্রের খবর— দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্ত ঐতিহাসিক স্থান বা রাস্তার নাম ঔপনিবেশিক বা বিতর্কিত পরিচয়ে আটকে ছিল, এবার সেগুলির আসল ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা হবে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিচার করা হবে একদম নিখুঁতভাবে। প্রয়োজনে প্রাচীন নথিপত্র অনুসন্ধান করা হবে এবং বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে ভৌগোলিক সামঞ্জস্য বজায় রাখা হবে, যাতে এক নামের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। এমনকি, প্রয়োজন পড়লে, ইতিহাস মুছে দেওয়া পুরনো নামগুলোকেও সসম্মানে ফিরিয়ে আনবে এই কমিটি।
হ্যাঁ এ কথা সত্য যে, রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইতেই একের পর এক রাস্তার নাম পরিবর্তন নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। কিছুদিন আগেই পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট থেকে ডন বস্কো সার্কেল পর্যন্ত বিতর্কিত ‘সুরাবর্দি অ্যাভিনিউ’-এর নাম বদলে রাখা হয় বীর ‘গোপাল মুখার্জি রোড’। রামপুরহাটের রাস্তা বদল নিয়েও সরগরম হয়েছিল রাজনীতি। আর এবার বাঙালি সংস্কৃতি ও সনাতনী ঐতিহ্যের সম্মান রক্ষায় নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত ইতিবাচক বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। আসলে বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটাই—বিদেশী আক্রমণকারী বা বিতর্কিত ব্যক্তিত্বদের নাম সরিয়ে বাঙালি বীর, বিপ্লবী ও ধর্মীয় সংস্কারকদের নামে রাস্তার পরিচয় গড়ে তোলা। তবে এখন সকলের নজর—কার্তিক মহারাজের নেতৃত্বে এই নয়া কমিটি বাংলার প্রতিটি কোণে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও আসল ইতিহাসকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করতে পারে কিনা সেদিকেই। আচ্ছা, আপনার শহরের বা এলাকার কোন রাস্তা বা সেতুর নাম অবিলম্বে বদলানো উচিত বলে আপনি মনে করেন? আর নতুন নাম কার নামে হওয়া উচিত? আপনার মূল্যবান মতামত অবশ্যই কমেন্ট করে জানান!