A major operation has been launched to curb infiltration in the state.

রাজ্যে অনুপ্রবেশ রুখতে শুরু হয়েছে বড়সড় অভিযান… হোল্ডিং সেন্টারে ৩৮৬ আটক,এবার কি সরাসরি বাংলাদেশে পুশব্যাক?

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশ রোধকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেছে নতুন সরকার। সেই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ অভিযান। তারই অংশ হিসেবে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় চালু করা হয়েছে ১১টি হোল্ডিং সেন্টার। সরকারি সূত্রের দাবি, এই কেন্দ্রগুলিতে রাখা হচ্ছে সেইসব ব্যক্তিদের, যাঁদের নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ রয়েছে অথবা যাঁদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের অভিযোগ উঠেছে। পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই কেন্দ্রগুলিতেই রাখা হবে।

এখনো পর্যন্ত হোল্ডিং সেন্টারগুলিতে রাখা হয়েছে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৮৬ জনকে আটক রাখা হয়েছে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে। তথ্য বলছে, সবথেকে বেশি আটক রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী বসিরহাট মহকুমায়। বসিরহাট পুলিশ জেলার অধীনে তিনটি হোল্ডিং সেন্টারে বর্তমানে রয়েছেন ৩৩৫ জন। তাঁদের মধ্যে ১৪৮ জন পুরুষ, ৯৯ জন মহিলা এবং ৮৮ জন শিশু রয়েছে।

টেন্টুলিয়া পাঠেরসাথী কেন্দ্র, চারঘাট ফ্লাড সেন্টার এবং মিডিয়া সুভাষনগর ফ্লাড সেন্টার, এই তিন জায়গায় রাখা হয়েছে অধিকাংশ আটক ব্যক্তিকে। প্রশাসনের অনুমান, এঁদের মধ্যে অনেকেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছেন। পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে। বসিরহাটের পরেই রয়েছে মুর্শিদাবাদ। সেখানে একটি হোল্ডিং সেন্টারে রাখা হয়েছে ১৯ জনকে। মালদহে আটক ৯ জন। দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮ জন। বারুইপুর পুলিশ জেলার অধীনে রয়েছে ৫ জন।
এছাড়া কোচবিহার-বারাসত এলাকায় ৩ জন, জঙ্গিপুরে ২ জন, কৃষ্ণনগরে ১ জন, সুন্দরবনে ১ জন এবং বনগাঁ পুলিশ জেলায় ১ জনকে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।

প্রশাসনের দাবি, হোল্ডিং সেন্টারগুলি জেলখানা নয়। এখানে আটক ব্যক্তিদের জন্য খাবার, পানীয় জল, চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিষেবার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থা ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পরিচয় যাচাই সম্পূর্ণ হলে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের তরফে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা গেলে শুরু হবে প্রত্যর্পণ বা ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া। সূত্রের খবর, আপাতত ৩০ দিন পর্যন্ত এই কেন্দ্রগুলিতে রাখা যেতে পারে সন্দেহভাজন বিদেশিদের।

তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। সরকারের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষা ও বেআইনি অনুপ্রবেশ রোধে এই ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যাতে কোনও নিরীহ ভারতীয় নাগরিক হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকেই। সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও পরিকাঠামো তৈরি করা হবে এবং প্রতিটি জেলাতেই এমন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তবে হোল্ডিং সেন্টার গুলিতে রয়েছে করা প্রহরা। সেন্টারগুলির বাইরে লাগানো রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। প্রহরায় রয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। রাজ্যে বর্তমানে ১১টি হোল্ডিং সেন্টারে ৩৮৬ জন আটক রয়েছেন। তার মধ্যে একাই বসিরহাটে রয়েছে ৩৩৫ জন। পরিচয় যাচাই এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের দাবি। তবে এই অভিযান কতটা সফল হয় এবং কতজনকে শেষ পর্যন্ত ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *