রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে তাঁর অতি কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার জঘন্য ও ভয়াবহ এক ষড়যন্ত্র বানচাল করল বেঙ্গল এসটিএফ। বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠীর ২৪ বছর বয়সী সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিম মণ্ডলকে জেরা করে এবং তার মোবাইল ঘেঁটে পাওয়া বিস্ফোরক তথ্য দেখে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। জানা গিয়েছে, পেশায় গার্মেন্টস লেভেলিংয়ের কাজ করা এই জঙ্গি অনলাইন মাধ্যমে সিআরপিএফ জওয়ান ও রাজ্য পুলিশের একই রকম দেখতে ভুয়ো পোশাকের অর্ডার দিয়েছিল। এসটিএফ-এর চরম সন্দেহ— সেনাদল বা পুলিশের ভুয়ো পোশাক পরে ছদ্মবেশে মুখ্যমন্ত্রীর একদম কাছাকাছি পৌঁছে গিয়ে এক ভয়াবহ হামলা চালানোর ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল এই জঙ্গি।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে এক হিমশিম খাওয়া তথ্য। এই সন্দেহভাজন জইশ জঙ্গি দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বাংলায় অতি গোপনে নিজের মডিউল চালাচ্ছিল। ধৃত হামিমের কাছ থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিটি সভার সময়সূচি, যাতায়াতের রুট ম্যাপ এবং ভিআইপি মুভমেন্টের সমস্ত সংবেদনশীল নথি উদ্ধার করেছে এসটিএফ। সুরক্ষাবাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে সিআরপিএফ ও পুলিশের পোশাক পরে ভিআইপি কর্ডনে ঢোকার ছক কষেছিল হামিম, যাতে খুব সহজেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানো যায়। তবে এসটিএফ-এর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক তৎপরতায় এই ছক পুরোপুরি ভেস্তে যায়।
এই নজিরবিহীন ও ভয়াবহ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ তোলেন যে, কোভিডের সময় থেকেই ভারতে জইশ মডিউল ছড়িয়ে পড়ছিল এবং কেন্দ্র থেকে সতর্ক করা সত্ত্বেও তৎকালীন তৃণমূল সরকার কোনো কড়া আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। বাম আমলে বাংলা ছিল জঙ্গিদের পারাপারের রাস্তা আর তৃণমূল জমানায় তা তৈরি হয়ে উঠেছিল জঙ্গিদের অবাধ ‘সেফ হোম’। তো তোষণ ও রাজনৈতিক গাফিলতির কারণে এতদিন ধরে বাংলা যে নিরাপত্তাহীনতার কবলে পড়েছিল, নব্য সরকারের সময় এসটিএফ-এর এই কঠোর ও দুর্নীতিনাশী কড়া পদক্ষেপের মাধ্যমে তা চিরতরে মুছে ফেলে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।
