অবশেষে কলকাতায় চালু হল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা NIA-র পূর্ণাঙ্গ থানা। এতদিন কলকাতায় শুধুমাত্র NIA-র একটি শাখা অফিস থাকলেও, কোনও নতুন মামলা রুজু করতে হলে তা করতে হত দিল্লিতে। এবার সেই প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তন এল। নিউ টাউনের এনবিসিসি স্কোয়ারে অবস্থিত NIA-র দফতরেই শুরু হয়েছে এই নতুন থানার কার্যক্রম। ফলে পশ্চিমবঙ্গে NIA-র আওতাভুক্ত কোনও মামলার তদন্ত শুরু করার ক্ষেত্রে আর দিল্লির উপর নির্ভর করতে হবে না। এখান থেকেই মামলা রুজু এবং তদন্তের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে।
এই থানার কাঠামোও অন্যান্য থানার মতোই। এখানে থাকবেন একজন অফিসার-ইন-চার্জ বা ওসি, সাব-ইন্সপেক্টর, কনস্টেবল-সহ অন্যান্য আধিকারিক ও কর্মীরা। অর্থাৎ এটি শুধুমাত্র একটি প্রশাসনিক অফিস নয়, বরং পূর্ণাঙ্গ তদন্তমূলক থানা হিসেবে কাজ করবে। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্ত করছে NIA। বেলডাঙার অশান্তির মামলা, মালদহের মোথাবাড়ি-কাণ্ড, বিভিন্ন বিস্ফোরণের ঘটনা-সহ একাধিক সংবেদনশীল মামলায় তদন্তভার রয়েছে এই কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে। নতুন থানা চালু হওয়ায় ভবিষ্যতে এই ধরনের মামলার তদন্ত আরও দ্রুত শুরু করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, অতীতে রাজ্যে NIA থানা খোলার জন্য আবেদন করা হলেও অনুমোদন মেলেনি। তবে সম্প্রতি রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরপরই কলকাতায় আনুষ্ঠানিকভাবে NIA থানা চালু করা হয়েছে। এদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক রাজ্য সফরেও এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, NIA-র নিজস্ব থানা চালু হওয়ার ফলে তদন্তের গতি বাড়বে, প্রশাসনিক জটিলতা কমবে এবং সন্ত্রাসবাদ, বিস্ফোরণ কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, NIA থানা চালু হলেও সব ধরনের অপরাধের তদন্ত এই সংস্থা করবে না। শুধুমাত্র NIA Act এবং কেন্দ্রের নির্দেশ অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গি কার্যকলাপ, বিস্ফোরণ, দেশের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার সঙ্গে জড়িত নির্দিষ্ট মামলাগুলিই NIA-র আওতায় আসবে। সাধারণ ফৌজদারি মামলা বা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিষয়ের তদন্ত আগের মতোই রাজ্য পুলিশের হাতেই থাকবে। তাই নতুন থানা চালু হওয়ার মূল উদ্দেশ্য হল জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মামলায় দ্রুত এফআইআর নথিভুক্ত করা, তদন্ত শুরু করা এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা।
