দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে আর মাত্র একদিন বাকি। তাই স্বাভাবিকভাবেই বাড়ছে উত্তেজনা, বাড়ছে প্রস্তুতিও। প্রথম দফার মতোই যাতে দ্বিতীয় দফার ভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য তৎপর নির্বাচন কমিশন। কোথাও যাতে কোনওরকম অশান্তি না হয়, সেই লক্ষ্যেই বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও।
এই অতিরিক্ত নিরাপত্তার অংশ হিসেবেই উত্তরপ্রদেশ থেকে আনা হয়েছে এক বিশেষ আইপিএস অফিসারকে। তাঁর নাম অজয় পাল শর্মা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর কড়া ভূমিকার জন্য তিনি আগে থেকেই পরিচিত। এবার তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো স্পর্শকাতর জেলায়।
অজয় পাল শর্মাকে অনেকেই এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট হিসেবে চেনেন। উত্তরপ্রদেশে কর্মরত থাকাকালীন একাধিক দুষ্কৃতী দমনের ঘটনায় তিনি সরাসরি ভূমিকা নিয়েছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে তাঁর কঠোর অবস্থানের জন্যই প্রশাসনের মধ্যে তাঁর আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে।
২৯ তারিখ কলকাতা-সহ গোটা দক্ষিণবঙ্গের ১৪২ আসনে ভোট। তার আগে নতুন করে ১১ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে পাঠানো হয়েছে এখানে। এই তালিকাতেই চমক দিয়েছে কমিশন। নতুন ১১ পর্যবেক্ষকের তালিকার পয়লা নম্বরেই রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের এই আইপিএস, এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট অজয় পাল শর্মা।
শুধু তাই নয়, উত্তরপ্রদেশে তিনি সিংহম নামেও পরিচিত। সিনেমার চরিত্রের মতোই অপরাধের বিরুদ্ধে নির্ভীক মনোভাব এবং দ্রুত অ্যাকশনের জন্য এই নাম পেয়েছেন তিনি। কঠোরতা ও শৃঙ্খলার জন্য সাধারণ মানুষের কাছেও তাঁর ভাবমূর্তি বেশ শক্তিশালী।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে, কেন তাঁকেই আনা হল বাংলায়? মূলত দক্ষিণ ২৪ পরগনার কিছু এলাকায় ভোটের সময় উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই আগেভাগেই কঠোর ও অভিজ্ঞ অফিসারকে মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে কমিশন।নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য একটাই ভোট যেন হয় শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ এবং ভয়ের পরিবেশমুক্ত। সেই কারণেই অন্য রাজ্য থেকে অভিজ্ঞ অফিসারদের এনে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। অজয় পাল শর্মার মতো অফিসারদের উপস্থিতি নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
কমিশনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে। শাসকদলের মতে, ভোট হবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে। সেখানে কি এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট কোনও অফিসার পাঠানোর আদৌ প্রয়োজন আছে? এভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা! ভোটের আগে বাংলার মানুষকে আতঙ্কিত করা হচ্ছে এমনটাও দাবি উঠেছে
সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় দফার ভোটকে ঘিরে প্রশাসনের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। কড়া নজরদারি, বাড়তি বাহিনী এবং অভিজ্ঞ অফিসারদের নিয়ে তৈরি হচ্ছে সুরক্ষার বলয়। এখন দেখার, এই ব্যবস্থার ফলে ভোটের দিন কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে।
