The opposition camp's game is over even before the polls.

ভোটের আগেই বিরোধী শিবিরের খেলা শেষ! লড়াই ছাড়াই রাজ্যসভার ৩টি আসনেই জয়ী বিজেপি !

 

গুজরাটের পর এবার মধ্যপ্রদেশ! রাজ্যসভা নির্বাচনের আগেই বিরোধীদের কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ করে দিল গেরুয়া ঝড়। আগামী ১৮ই জুন যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, তার আগেই রাজকীয় জয় ছিনিয়ে নিল বিজেপি। কোনো রকম ভোটযুদ্ধ ছাড়াই মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হলেন বিজেপির তিন হেভিওয়েট প্রার্থী। কিন্তু কীভাবে ঘটল এই রাজনৈতিক চমৎকার? যেখানে কংগ্রেস শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকার চেষ্টা করছিল, সেখানে কীভাবে রাতারাতি পাশা উল্টে গেল? আর এর পেছনে কংগ্রেস প্রার্থীর কোন মারাত্মক ভুল লুকিয়ে ছিল?
আসলে পুরো ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন কংগ্রেসের তারকা প্রার্থী মীনাক্ষী নটরাজন। স্ক্রুটিনির সময় রিটার্নিং অফিসার তাঁর মনোনয়ন পত্রটি সরাসরি বাতিল করে দেন। কিন্তু কেন? বিজেপির শীর্ষ নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং রাকেশ সিং অভিযোগ তোলেন যে, মীনাক্ষী নটরাজন তাঁর হলফনামায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। হায়দরাবাদের একটি আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা ঝুলে রয়েছে, যার কোনো উল্লেখই ছিল না তাঁর নির্বাচনী নথিতে। কংগ্রেস প্রার্থীর সমস্ত যুক্তি খণ্ডন করে আইন অনুযায়ী তাঁর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়। আর এর সাথেই রাজ্যসভার লড়াইয়ে বিজেপির সামনে আর কোনো প্রতিপক্ষই অবশিষ্ট থাকল না। কংগ্রেসের এই মস্ত বড় ভুলের মাশুল দিতে হলো পুরো দলকে। বৃহস্পতিবারই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে বিজয়ী প্রার্থীদের হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দিল্লির উচ্চকক্ষে যাওয়ার টিকিট পেয়ে গেলেন বিজেপির তিন লড়াকু মুখ—রজনীশ আগরওয়াল, তরুণ চুঘ এবং মহেশ কৈবত। যদিও এই পরাজয় সহজে মেনে নিতে পারছে না হাত শিবির। মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে তারা ইতিমধ্যেই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। এমনকি কংগ্রেসের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে গিয়েও দরবার করেছে। কিন্তু লাভ কিছুই হয়নি। শুক্রবার আদালতে এই মামলার শুনানি হলেও, আপাতত মধ্যপ্রদেশে বিজেপির জয়জয়কার ঠেকানো সম্ভব হয়নি।

তবে এই গোটা ঘটনার মধ্যে একটি বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে, যা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। কংগ্রেসের অভিযোগ—একই ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে দু’রকম বিচার করা হয়েছে। ঝাড়খণ্ডে এনডিএ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী পরিমল নাথওয়ানির বিরুদ্ধেও হলফনামায় একাধিক বাণিজ্যিক সংস্থায় ডিরেক্টর থাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ এনেছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক নমন বিক্সাল কোঙ্গারি। কিন্তু মীনাক্ষী নটরাজনের মনোনয়ন বাতিল হলেও পরিমলের ক্ষেত্রে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আর এই ‘এক যাত্রায় পৃথক ফল’ নিয়েই এখন আদালতের দরজায় কড়া নাড়ছে কংগ্রেস।
অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ যাই থাক না কেন, দিনের শেষে বাজিমাত করেছে বিজেপিই। নির্বাচনী রণকৌশল আর প্রতিপক্ষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে লড়াইয়ের আগেই জয় নিশ্চিত করা—একেউ বলে আসল মাস্টারস্ট্রোক। এখন দেখার, আদালতের শুনানিতে কংগ্রেস কি কোনো স্বস্তি পাবে, নাকি রাজ্যসভায় বিজেপির এই হ্যাটট্রিকই চূড়ান্ত সিলমোহর পাবে?
আপনার কী মনে হয়? হলফনামায় তথ্য গোপন করা কি কংগ্রেসের চরম অপেশাদারিত্বের প্রমাণ? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *