Abhishek Banerjee could be arrested upon his return to Kolkata.

কলকাতা ফিরলেই গ্রেফতার হতে পারেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়? সই জালিয়াতি মামলায় একের পর এক হাজিরা এড়িয়ে চলেছেন

ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে ঘিরে একের পর এক খবর সামনে আসছে। সেই তালিকায় জোরাল ভাবে উঠে এসেছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। বিধানসভার সই জালিয়াতি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা দেননি বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে তাঁর যাতায়াত সংক্রান্ত তথ্য জানতে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সিআইডি। ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।

সিআইডি সূত্রের দাবি, তদন্তের স্বার্থে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ভ্রমণ সংক্রান্ত তথ্য প্রয়োজন। কারণ, তদন্তকারী সংস্থার মতে, তিনি কোথায় ছিলেন এবং কোন সময়ে রাজ্যে প্রবেশ বা রাজ্য ছেড়েছেন, সেই তথ্য মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই কারণেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

বিধানসভায় সই জালকাণ্ড নিয়ে অস্বস্তি বেড়েই চলেছে তৃণমূলের অন্দরে। আর সেই কারণে বিধায়ক সই জাল কাণ্ড’ ঘটনার তদন্তে নেমেই CID তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানী ভবনে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছিল। কিন্তু একাধিক কারণ দেখিয়ে তিনি হাজিরা দেননি। তৃতীয়বার, দিল্লিতে রয়েছেন জানিয়ে সিআইডির কাছে সময় চান তিনি। তারপরই অভিষেকের গতিবিধির খোঁজে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল সিআইডির তরফে। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, কলকাতা ফিরলেই হয়ত গ্রেপ্তার হতে পারেন তৃণমূল সেনাপতি। এদিকে সই জাল কাণ্ডে রক্ষা কবচ চেয়ে হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন অভিষেক।

তবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র তথ্য সংগ্রহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তদন্তের গতি ও সিআইডির সক্রিয়তা দেখে তাঁদের অনুমান, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নেওয়া হতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি।

অন্যদিকে তৃণমূলের নেতারা দাবি করছেন, এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পদক্ষেপ। তাঁদের বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পর বিরোধী দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের চাপের মুখে ফেলতেই বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলেই তাঁদের দাবি। আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশ অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বিমানবন্দর থেকে তথ্য চাওয়া মানেই গ্রেপ্তারির সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে এমন নয়। কোনও তদন্তে অভিযুক্ত বা সাক্ষীর গতিবিধি জানার জন্য তদন্তকারী সংস্থাগুলি প্রায়শই এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। তাই শুধুমাত্র এই পদক্ষেপের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের সম্ভাবনা নিশ্চিত করে বলা যায় না।

তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি বারবার তলব এড়িয়ে যান, তাহলে তদন্তকারী সংস্থা আদালতের দ্বারস্থ হতে পারে। আদালত প্রয়োজন মনে করলে আরও কঠোর নির্দেশ দিতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে তাঁর আইনি জটিলতা বাড়তে পারে বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি চাপ যে ক্রমশ বাড়ছে, তা স্পষ্ট। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য তলবের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এটি কি শুধুই তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, নাকি এর পরেই আসতে চলেছে আরও বড় কোনও পদক্ষেপ? সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *