দীর্ঘদিনের সংগ্রাম, বুথ স্তরের কর্মীদের ওপর হওয়া অত্যাচার, আর সমস্ত প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে লড়াই করার পর অবশেষে যোগ্য সম্মান পেলেন উত্তরবঙ্গের সেই অকুতোভয় আদিবাসী মুখ মালতী রাভা রায়। বুধবার রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তুফানগঞ্জের এই লড়াকু বিধায়ক। হ্যাঁ, ২৬-এর নির্বাচনে বিজেপির এই ঐতিহাসিক জয়ে উত্তরবঙ্গের অবদান ছিল অনস্বীকার্য। আর সেই উত্তরবঙ্গের ঘরের মেয়ে মালতী রাভাকে দেওয়া হলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিন-তিনটি দফতরের দায়িত্ব। বুধবার মন্ত্রিত্ব বন্টনে তাকে দেওয়া হয়েছে নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর, সামাজিক উন্নয়ন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদণ্ড স্বনির্ভর গোষ্ঠীর স্বাধীন দায়িত্ব সামলানোর গুরুভার।
এ বিষয়ে অবশ্য রাজনৈতিক মহলের দাবি, আদিবাসী সমাজের এই যোগ্য নেত্রীকে গুরুদায়িত্ব দিয়ে বিজেপি সরকার প্রমাণ করে দিয়েছে, যারা দলের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়ে, অন্ত্যোদয়ের মন্ত্রে বিশ্বাসী বিজেপি তাদের কখনো ভোলে না। তবে, মালতী রাভা রায়ের এই সাফল্য রাতারাতি আসেনি। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের আলিপুরদুয়ার কলেজ থেকে কলাবিভাগে স্নাতক মালতী ৯০-এর দশক থেকে পদ্ম শিবিরের একনিষ্ঠ কর্মী। তিনি সঙ্ঘ ঘেঁষা এবং অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ নেত্রী হিসেবেই পরিচিত। তার স্বামী ইন্দ্র মোহন রাভা ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি। পরবর্তীতে মালতী নিজেও দক্ষতার সাথে জেলা সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। অর্থাৎ, একদম বুথ স্তর থেকে উঠে এসে আজ তিনি রাজধর্ম পালনের দায়িত্বে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রথমবার বিজেপির টিকিটে তুফানগঞ্জ থেকে লড়ে বিধায়ক হয়েছিলেন তিনি। গত ৫ বছর ধরে যখন রাজ্যে বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন চলছিল, তখনও তিনি ভয় পাননি। আর এবার ২০২৬-এর মহালড়াইতে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী, প্রাক্তন ক্রিকেটার শিবশঙ্করকে ৩১ হাজারেরও বেশি ভোটের বিশাল ব্যবধানে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিয়েছেন মালতী রাভা। প্রমাণ করে দিয়েছেন, মাঠের ক্রিকেট আর রাজনীতির পিচে মাটির লড়াইয়ের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত।
এমনকি, ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারে বিজেপির ঐতিহাসিক রথযাত্রা আয়োজনের মূল দায়িত্বেও ছিলেন এই মালতী রাভা। যদিও তৎকালীন শাসকদলের ভয়ে এবং আইনি জাঁতাকলে সেই রথযাত্রা আটকে যায়, কিন্তু মালতীর লড়াকু মানসিকতা সেদিনই রাজ্য রাজনীতির শিরোনাম কেড়ে নিয়েছিল। তার এই দলের প্রতি আনুগত্য, আর মানুষের প্রতি ভালোবাসার পুরস্কার আজ পেলেন। উত্তরবঙ্গের এই জননেত্রীর হাত ধরে নারীকল্যাণ থেকে শুরু করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর উন্নয়ন—এবার এক নতুন ভোরের সূচনা হতে চলেছে বলেই মনে করছেন সকলে।
