Abhishek Banerjee faces a severe crisis in Diamond Harbour.

ডায়মন্ড হারবারেই বেজায় সংকটে অভিষেক ব্যানার্জী ! ভোটে ভরাডুবির পর এবার জামানত জপ্ত হবার মুখে তৃনমূলের যুবরাজ !

তৃণমূলের দম্ভ আর ‘ভাইপো’র খাসতালুক ডায়মন্ড হারবারে এবার হয়ে গেল আসল ‘খেলা’! যে দুর্গে এতদিন বিরোধীরা মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহস পেত না, যেখানে স্রেফ ক্ষমতার জোরে বিরোধীদের দাগ কাটতে দেওয়া হতো না, আজ সেখানেই ফুটল পদ্ম আর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল শাসকদলের দম্ভ। লোকসভা কেন্দ্রের ফলতা বিধানসভায় বিজেপির ঐতিহাসিক ও মেগা জয়ের পর এবার ডায়মন্ড হারবার পুরসভাতেও চূড়ান্ত বিপর্যয় ঘটল তৃণমূলের। ১৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে একযোগে ১০ জন কাউন্সিলর পদত্যাগ করায় খোদ সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাকের ডগায় ভেঙে চুরমার হয়ে গেল পুরবোর্ড! রাজ্য রাজনীতি কাঁপানো এই মেগা ব্রেকিং নিউজের ইনসাইড স্টোরি কী? জানতে ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন।

আসলে বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তোষণকারী ও কাটমানি খাওয়া নেতাদের দিন শেষ হয়ে এসেছে। কলকাতা পৌরনিগম থেকে শুরু করে রাজ্যের কোণায় কোণায় এখন তৃণমূলের টালমাটাল অবস্থা। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ আর দুর্নীতির অভিযোগে ভুরি ভুরি তৃণমূল কাউন্সিলররা সোজা শ্রীঘরে ঢুকছেন। আর এই চোর-বাহিনীর পতন দেখে খোদ ডায়মন্ড হারবারেও দল ছাড়ার হিড়িক পড়ে গেছে। সোমবার খোদ ডায়মন্ড হারবার পুরসভার বুকে ঘটে গেল সেই ঐতিহাসিক ঘটনা। আট জন কাউন্সিলর সশরীরে চেয়ারম্যানের ঘরে গিয়ে পদত্যাগ পত্র জমা দেন, আর বাকি দুই মহিলা কাউন্সিলর অনলাইনে ইস্তফা পাঠিয়ে দেন। ১৬ জনের মধ্যে ১০ জনই হাত তুলে নেওয়ায় ক্ষমতার দম্ভে চলা ডায়মন্ড হারবার পুরবোর্ড আজ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত!

একসময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঙ্কার দিয়ে বলতেন, ডায়মন্ড হারবারে নাকি কোনো বিরোধী দল নেই। কিন্তু উনি ভুলে গিয়েছিলেন, মানুষ যখন অত্যাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়, তখন কোনো ভাইপো-র ম্যাজিক কাজ করে না। সম্প্রতি ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটে জয়লাভ করে বিজেপি আগেই ট্রেলার দেখিয়ে দিয়েছিল। আর এবার খোদ পুরসভা হাতছাড়া হওয়া মানে ডায়মন্ড হারবার থেকে তৃণমূলের আধিপত্য চিরতরে মুছে যাওয়া। আসন্ন পুরভোটের আগে এই ঘটনা যে বিজেপির জাতীয়তাবাদী লড়াইকে আরও ১০ গুণ শক্তিশালী করল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর বোর্ড ভেঙে যাওয়ার কারণে মঙ্গলবার সকাল থেকে ডায়মন্ড হারবারের সাফাই ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবা কিছুটা ব্যাহত হওয়ার খবর আসছে। তৃণমূল জমানার শেষ লগ্নেও সাধারণ মানুষকে ভুগতে হচ্ছে। যদিও বর্তমান চেয়ারম্যান প্রণব দাস কোনোমতে কাজকর্ম সামলানোর চেষ্টা করছেন এবং জানিয়েছেন যে খুব দ্রুত এখানে সরকারি প্রশাসক বসানো হবে। এই পরিস্থিতিতে ডায়মন্ড হারবারের প্রভাবশালী বিজেপি নেতা দীপক হালদার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পুরো বিষয়টি প্রশাসন এবং সরকারের নজরে রয়েছে। সাধারণ মানুষের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, তার জন্য খুব দ্রুত নবান্নের তরফ থেকে কড়া ও সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

যে ডায়মন্ড হারবারকে এতদিন তৃণমূলের সন্ত্রাসের রাজধানী বানিয়ে রাখা হয়েছিল, আজ শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনে সেখানে আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। ভাইপো-র সাধের দুর্গ ভেঙে আজ সেখানে গেরুয়া ঝড় উঠেছে। এটা তো কেবল শুরু, আগামী দিনে গোটা ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্র থেকেই তৃণমূলের পাততাড়ি গোটাতে চলেছে বিজেপি সরকার!

আপনার কী মনে হয়? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে এভাবে তৃণমূলের পুরবোর্ড ভেঙে পড়া কি আসলেও বঙ্গে তৃণমূল রাজত্বের সম্পূর্ণ অবসানের ইঙ্গিত? কমেন্ট বক্সে জানান আপনার মতামত ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *