আইনের হাত থেকে রেহাই নেই কারোরই! এতদিন ক্ষমতার গরমে যারা ধরাকে সরা জ্ঞান করত, যারা ভাবত পুলিশের উর্দিতে নিজেদের গোলাম বানিয়ে আজীবন পার পেয়ে যাওয়া যাবে—তাদের অহংকার এবার চূর্ণ হতে চলেছে। নির্বাচনী প্রচারে লাগামছাড়া নোংরা ভাষা আর উস্কানিমূলক হুমকি দেওয়ার অপরাধে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে দায়ের হলো এফআইআর। বিধাননগর কমিশনারেটের কড়া পদক্ষেপ কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছে জোড়াফুল শিবিরে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭শে এপ্রিল। মঞ্চে দাঁড়িয়ে অহংকারের চরম সীমায় পৌঁছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন— “আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে তাদের বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব।” ভাবা যায়? একজন সাংসদের মুখে এই জল্লাদ আর কুৎসিত হুমকি সংস্কৃতি? রাজনৈতিক সৌজন্যকে ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে হিংসায় প্ররোচনা দেওয়ার এই নোংরা খেলা আর বরদাস্ত করেনি বাংলার সচেতন সমাজ। অভিযোগকারীর জমা দেওয়া ভিডিও প্রমাণের ভিত্তিতে নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। সাইবার অপরাধ সহ মোট ৫টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে ভাইপোর বিরুদ্ধে। আর সবথেকে বড় ধাক্কা হলো—এর মধ্যে দুটি ধারা সম্পূর্ণ জামিন অযোগ্য! অর্থাৎ, চাইলেই আর টেবিল চাপড়ে রেহাই পাওয়া যাবে না। ক্ষমতার হাতবদল হতেই পুলিশ এখন আর কোনো রাজনৈতিক দলের দাস নয়, তারা এখন নিরপেক্ষভাবে আইনের শাসন কায়েম করতে বদ্ধপরিকর।
তৃণমূলের জমানায় এই ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর প্রতিনিয়ত রাজনৈতিক হিংসা চালানো হতো। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হতো এই ধরনের মঞ্চ থেকেই। কিন্তু বিজেপি সরকার আসতেই বাংলা থেকে সেই ভয়ের পরিবেশ উধাও হয়েছে। সুশাসনের হাত ধরে বাংলা এখন শান্তির পথে হাঁটছে। নিয়ম ভাঙলে রাজপুত্রকেও যে লকআপের হাওয়া খেতে হতে পারে, শুভেন্দু সরকারের পুলিশ আজ তা স্পষ্ট করে দিল। তৃণমূলের একাংশ এখন অবাস্তব কান্নাকাটি জুড়েছে। তাদের দাবি, এটা নাকি পরিকল্পিত চক্রান্ত। কিন্তু সাধারণ মানুষ হাসছেন। কারণ ভিডিও প্রমাণ তো খোদ অভিষেকের নিজের মুখের কথা! দিল্লি থেকে ‘কোন বাবা উদ্ধার করতে আসে’—বলে যারা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অপমান করেছিল, আজ তাদের নিজেদেরই উদ্ধার করতে উকিলদের দরজায় দরজায় ঘুরতে হচ্ছে।
আইনের চোখে সবাই সমান—তা সে নবান্নের প্রাক্তন শাসক হোক কিংবা রাস্তার সাধারণ চোর। বাগুইআটি থানার এই এফআইআর কি তবে অভিষেকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অন্তিমলগ্নের সূচনা? অহংকারের পতন কীভাবে হয়, তা দেখার জন্য এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে গোটা বাংলা। আপনার কী মনে হয়? মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই ধরনের হিংসাত্মক হুমকি দেওয়ার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কি কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত? আপনার মতামত জানান কমেন্টে।
