Action within 24 hours—otherwise, immediate suspension.

‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা, না হলে সোজা সাসপেনশন’,নবান্নের তল্পিবাহক অফিসারদের চরম হুঁশিয়ারি নির্বাচন কমিশনের!

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এবার পালা দ্বিতীয় দফার। আর তার জন্য বেশ তোড়জোড় চলছে কমিশনের তরফে। আসলে সাধারণ মানুষকে শাসানো, ভোটারদের ভয় দেখানো আর ছাপ্পা ভোটের সময় চোখ বন্ধ করে রাখা— এটাই ছিল বাংলার চেনা ছবি। কিন্তু এবার আর পাড় পাওয়া যাবে না! দিল্লি থেকে কড়া বার্তা এসেছে যেখানে নির্বাচন কমিশন সাফ জানিয়েছে, ভোটারদের ভয় দেখালে বা পুলিশের কোনো গাফিলতি থাকলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেওয়া হবে কঠোর পদক্ষেপ। হ্যাঁ, সম্প্রতি দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের হাই-লেভেল মিটিং হয়েছে। সেখানে সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের জেলা পুলিশ সুপার (SP) এবং পুলিশ কমিশনারদের (CP) তলব করে একপ্রকার ধমক দেওয়া হয়েছে।

সূত্রের খবর, কমিশনের তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বিরোধী কর্মীদের ওপর মিথ্যা মামলা দিয়ে ঘরছাড়া করা বা ভোটারদের ভয় দেখানোর খবর যদি কমিশনের কাছে পৌঁছায়, তবে সংশ্লিষ্ট থানার আইসি বা ওসি নয়, সরাসরি কোপ পড়বে জেলার শীর্ষ কর্তাদের ওপর। তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন নিতে হবে। যদি জেলা প্রশাসন সেই অভিযোগ গুরুত্ব না দেয়, তবে কমিশন নিজেই সেই আধিকারিককে সরিয়ে দেবে। অর্থাৎ, নবান্নের থেকে আসা ফোন কল শুনে যারা কাজ করেন, সেই সব তল্পিবাহক পুলিশ অফিসারদের দিন এবার শেষ হতে চলেছে তা বোঝাই যাচ্ছে। সেই সঙ্গে ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং প্রতিটি এলাকায় শান্তি বজায় রাখার জন্য পুলিশ প্রশাসনকে যে এখন থেকেই পূর্ণমাত্রায় সক্রিয় হতে হবে তাও এদিনের বৈঠক থেকে স্পষ্ট করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

কিন্তু কেন হঠাৎ কমিশন এতো কড়া? কারণটা সবার জানা! ২০২৪-এর লোকসভা হোক বা আগের পঞ্চায়েত বাংলার অলিতে-গলিতে তৃণমূলের ‘বাহিনী’ ও পুলিশের ‘সহযোগিতা’ একাকার হয়ে গিয়েছিল। তাই বিরোধী এজেন্টদের বুথ থেকে বের করে দেওয়া বা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো তৃণমূলের এই পুরনো খেলায় এবার জল ঢালতে বদ্ধপরিকর ECI। যদিও বিজেপি বারবার অভিযোগ করে এসেছে, বাংলার পুলিশ মমতার ভৃত্যের মতো কাজ করে। আর এরপর কমিশনের এই কড়া নির্দেশ প্রমাণ করে দিল, সেই অভিযোগ কতখানি সত্য ছিল। কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথে থাকবে ঠিকই, কিন্তু এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব যাদের ওপর সেই রাজ্য পুলিশকে এবার জবাবদিহি করতে হবে দিল্লির কাছে।

এদিকে এই নির্দেশের পরেই শাসকদলের অন্দরে কাঁপুনি শুরু হয়েছে। কারণ পুলিশ যদি নিরপেক্ষ হয়ে যায়, তবে তৃণমূলের অর্ধেক ভোট এমনিতেই উধাও হয়ে যাবে। তাছাড়া, এবার ওয়েবকাস্টিং এবং মাইক্রো-অবজারভারদের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। কোনো পুলিশ কর্মী যদি বুথের আশেপাশে তৃণমূলের নেতাদের তল্পিবাহক হিসেবে দেখা যায়, তবে তার চাকরি সুতোয় ঝুলতে পারে। অর্থাৎ, ২৬-এর লড়াইটা ইভিএমে হতে চলেছে, কোনো বাইক বাহিনীর কারসাজিতে নয়। আর সে কারণেই ভোটের দিন অশান্তি রুখতে একগুচ্ছ কড়া ব্যবস্থার কথা শুনিয়েছেন সিইও। কমিশনের কড়া দাওয়াইয়ের মধ্যে রয়েছে, প্রতিটি বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা ও লাইভ ফিড। থাকছে। যা সরাসরি কমিশনের অফিস থেকে দেখা যাবে। এর পাশাপাশি বুথের ভেতরে ভোটার ও আধিকারিক ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। ফলে, মাছি গলার সম্ভাবনাও যে নেই বুথে তা কমিশনের ব্যবস্থাপনা দেখারি বোঝা যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *