হিমবাহ হ্রদ ভেঙে নামা জলরাশি, তার সঙ্গে হড়পা বান—প্রকৃতির ভয়ঙ্কর জোড়া আঘাতে বিপর্যস্ত নেপাল। আর সেই বিপর্যয়ের মধ্যেই আটকে পড়েছেন ভারতের বহু পর্যটক। তাঁদের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের অন্তত ৩৯ জনের কোনও খোঁজ মিলছিল না। তবে শুক্রবার সন্ধ্যায় এল সামান্য স্বস্তির খবর।
নিখোঁজ ৩৯ জনের মধ্যে দু’জনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে। জানা গিয়েছে, ওই দু’জন বসিরহাটের বাসিন্দা। তাঁরা নেপালে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবারে। কিন্তু এখনও ৩৭ জনের সঙ্গে কোনওভাবেই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
আর এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজে আরও সক্রিয় হতে চাইছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুক্রবার রাতে নবান্নের বিশেষ কন্ট্রোল রুমে পৌঁছে পরিস্থিতির খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারগুলির সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ভবানীভবন থেকে ভারচুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের আশ্বস্ত করেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারগুলিকে আশ্বস্ত করার পাশাপাশি কেন্দ্রের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার কথাও জানান তিনি।
এদিকে নেপালে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে এবার রাজ্যের তরফে বিশেষ টিম পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বিদেশ মন্ত্রকের কাছে ইতিমধ্যেই অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি মিললেই কলকাতা থেকে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল কাঠমাণ্ডুর উদ্দেশে রওনা দেবে। এই টিমে থাকার কথা একজন মন্ত্রী, একজন বিধায়ক, আইজি পদমর্যাদার একজন পুলিশ আধিকারিক এবং একজন আইএএস অফিসারের।
গত ২৬ আগস্ট, বুধবার নেপালে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটে। হিমবাহ হ্রদ ভেঙে জল নেমে আসা এবং হড়পা বানের জেরে একাধিক এলাকা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে নেপালে যাওয়া তিনশোরও বেশি পর্যটক বিভিন্ন জায়গায় আটকে পড়েছেন বলে খবর। তাঁদের অনেকের সঙ্গেই এখনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।পশ্চিমবঙ্গ থেকেও একাধিক পরিবার তাঁদের প্রিয়জনের খবর না পেয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। নিখোঁজদের তালিকা হাতে নিয়ে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে রাজ্য প্রশাসন। নবান্নে খোলা হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল রুম। দায়িত্বে রয়েছেন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকরা।
পরিবারগুলির কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ, নেপাল প্রশাসন এবং কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ—সবদিক থেকেই চলছে সমন্বয়ের চেষ্টা। শুক্রবার রাতে সেই কন্ট্রোল রুমে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর ভবানীভবনে গিয়ে নিখোঁজ পর্যটকদের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি ভারচুয়াল বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ছিলেন ডিজিপি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা। নিখোঁজদের পরিবারের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত বর্ষীয়ান নেতা মুকুল রায়ের ছেলে শুভ্রাংশুও। তাঁর স্ত্রী নেপালে গিয়েছিলেন। এখনও পর্যন্ত তাঁরও কোনও খবর পাওয়া যায়নি।
