তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠাদিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে আবারও এক নজিরবিহীন আইনি ও রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটল! একদিকে হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা আটকে সভা করার অভিযোগ, আর অন্যদিকে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া— দুই ঘটনা মিলিয়ে তুঙ্গে উঠেছে শহরের উত্তাপ!
ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার টিএমসিপির জোড়া কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে। ‘কে আসল, কে নকল’ বিতর্ক শেষ পর্যন্ত গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যে, গান্ধী মূর্তির পাদদেশে নয়, বরং ক্যাথিড্রাল রোড ও রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে ট্রাফিকের একটি দিক খোলা রেখে সভা করতে হবে। কিন্তু কালীঘাট তৃণমূলের তরফে আয়োজিত সভায় সেই নির্দেশ অমান্য করে রাস্তা পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ ওঠে। আর ঠিক এই ইস্যুতেই যাদবপুরে ১০ হাজার কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম্’ গাওয়ার মেগা অনুষ্ঠান শেষে সরাসরি আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট জানান— হাইকোর্টের নির্দেশ ভেঙে যেভাবে জনজীবন স্তব্ধ করা হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তড়িঘড়ি এফআইআর করার এবং বিষয়টি পুনরায় আদালতে জানানোর।
তবে ছাড়ার পাত্রী নন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও! টিএমসিপির প্রতিষ্ঠার মঞ্চ থেকেই ক্যামাক স্ট্রিটের সাম্প্রতিক সাইনবোর্ড কাণ্ড নিয়ে পাল্টা হঙ্কার দেন তিনি। রাজ্য সরকার ও পুলিশের ভূমিকাকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন— ক্যামাক স্ট্রিটের ভবনে কি চুুরি করতে যাওয়া হয়েছিল? আজ যাঁরা এই ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন, সেই ‘দানবিক’ পুলিশকে তিনি চেনেন না। রাজ্য প্রশাসনের প্রতি আস্থাহীনতা প্রকাশ করে তিনি আরও দাবি জানান যে, বাংলার পুলিশের বদলে তাঁর আজ কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোর ওপরই ভরসা রাখা উচিত।
একদিকে টিএমসিপির প্রতিষ্ঠাদিবসের জোড়া সভা, ক্যামাক স্ট্রিটের সংঘাত এবং অন্যদিকে হাইকোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘনের কারণে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ— সব মিলিয়ে শারদোৎসবের ঠিক আগেই বঙ্গের রাজনীতির ময়দানে কিন্তু এক চরম আইনি ও রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয়ে গেল।
