কেন্দ্রের প্রকাশ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৭.৮ শতাংশ। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বৃদ্ধির হিসাবের মধ্যে রয়েছে অসঙ্গতি। পরিসংখ্যানের বাস্তবতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন প্রাক্তন অর্থসচিব সুভাষচন্দ্র গর্গ। তাঁর দাবি, সরকার যে সংখ্যাকে আর্থিক বৃদ্ধির হার হিসেবে দেখাচ্ছে, তা বাস্তব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পুরো ছবি তুলে ধরে না। এর পিছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে জিডিপি হিসাবের ভিত্তিবর্ষ পরিবর্তনের বিষয়টিও। আর এই বিতর্কের মধ্যেই শনিবার দিল্লির শ্রী রাম কলেজ অফ কমার্সের শতবর্ষ উদযাপনের মঞ্চে মুখ খোলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
সেখানেই বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। মোদির বক্তব্য, যারা একসময় ভারতকে ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’-এর মধ্যে ঠেলে দিয়েছিল, তাঁরাই আজ ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিসংখ্যান মেনে নিতে পারছেন না। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ, বিশ্ব বাণিজ্যে অস্থিরতা,
সাপ্লাই চেইনের সমস্যা, এত প্রতিকূলতার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতি স্থিতিশীল রয়েছে বলেই দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেখান থেকেই ফিরে যান ২০১৩ সালের প্রসঙ্গে।
মোদির কথায়, ২০১৩ সালে ভারতের অর্থনীতি ছিল প্রবল চাপের মধ্যে। টাকার দাম পড়ছিল, মুদ্রাস্ফীতি ছিল প্রায় ১০ শতাংশ,
কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ঘাটতি ছিল, আর দুর্নীতির অভিযোগে জর্জরিত ছিল তৎকালীন সরকার। সেই সময় আন্তর্জাতিক মহলে ভারতকে বলা হত ‘ফ্র্যাজাইল ফাইভ’। মোদির দাবি, সেই ভারতই আজ বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতিগুলির একটি। এখানেই একটি পুরনো ‘অর্ধেক গ্লাস’-এর উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ গ্লাসকে অর্ধেক ভরা দেখেন, আবার কেউ অর্ধেক খালি দেখেন। আর তাঁর বক্তব্য ছিল গ্লাস আসলে পুরো ভরা। অর্ধেক জলে, আর অর্ধেক হাওয়ায়। মোদির অভিযোগ, যারা ২০১৩ সালে দেশকে অর্ধেক খালি দেখতেন,
তাঁরা আজও একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ভারতের দিকে তাকাচ্ছেন।
সমালোচকদের দুই ভাগে ভাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। একদিকে ‘দিমাগি নকশাল’।অন্যদিকে ‘নারাজ ফুফা’। মোদির অভিযোগ, এই সমালোচকরাই ইউপিআই থেকে শুরু করে বুলেট ট্রেন, স্ট্যাচু অফ ইউনিটি কিংবা নতুন সংসদ ভবন প্রতিটি বড় উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এমনকি কোভিড, যুদ্ধ এবং সাপ্লাই চেইন সংকটের সময় ভারত দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও তাঁরা আশা করেছিলেন বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু তাঁর বক্তব্য, সেই আশঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে ভারত এগিয়ে চলেছে। নিজের সরকারের সাফল্যের উদাহরণ দিতে গিয়ে জন ধন যোজনার কথাও তুলে ধরেন মোদি।
তাঁর দাবি, গত ১২ বছরে প্রায় ৬০ কোটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। এর ফলে দেশের দরিদ্র মানুষ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সালে ভারত যেখানে বিপুল পরিমাণ মোবাইল ফোন আমদানি করত,
আজ ভারত ২.৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মোবাইল রপ্তানি করছে। তবে রাজনৈতিক বিতর্ক এখানেই শেষ হচ্ছে না। একদিকে সরকারের দাবি, ভারতের অর্থনীতি শক্তিশালী এবং বৃদ্ধির গতি যথেষ্ট ভালো। অন্যদিকে বিরোধীদের প্রশ্ন এই বৃদ্ধির পরিসংখ্যান কতটা বাস্তব, আর হিসাবের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের প্রভাব কতটা? আর সেই সংঘাতের মঞ্চ থেকেই মোদির বার্তা স্পষ্ট, “মিথ্যার গুঞ্জন সত্যের গর্জনের সামনে টিকতে পারে না।”
