গেরুয়া শুধু একটি রং নয়। কারও কাছে এটি ত্যাগের প্রতীক, কারও কাছে আত্মমর্যাদার, আবার কারও কাছে জাতীয়তাবাদ ও আদর্শের প্রতীক। সেই গেরুয়ার মর্যাদা ও আদর্শকে সামনে রেখেই এবার পথে নামতে চলেছে বঙ্গ বিজেপি। আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কলকাতার রাজপথে আয়োজন করা হয়েছে গেরুয়া সম্মান যাত্রা।
গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত হবে এই পদযাত্রা। বিকেল ৩টে নাগাদ শুরু হওয়ার কথা এই কর্মসূচির। আর এই পদযাত্রার নেতৃত্বে থাকবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলে স্বাভাবিকভাবেই কর্মসূচিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি রাজনৈতিক উত্তাপ। বিজেপির দাবি, গেরুয়ার মর্যাদা এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ত্যাগ ও আদর্শের বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই যাত্রার মূল উদ্দেশ্য।
তবে এই পদযাত্রার গন্তব্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় রাজনৈতিক তাৎপর্যও যথেষ্ট গভীর। যাদবপুরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপি একাধিক অভিযোগ তুলে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরের স্লোগান-রাজনীতি থেকে শুরু করে নানা ধরনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে গেরুয়া শিবির। ফলে গোলপার্ক থেকে যাদবপুরের পথে এই পদযাত্রা নিছক একটি রাজনৈতিক মিছিলের চেহারা ছাড়িয়ে অন্য মাত্রা পেতে চলেছে।এর আগে ক্ষমতায় আসার পর যাদবপুরের বুকেই পূর্ণাঙ্গ বন্দেমাতরম গাওয়ার কর্মসূচি ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছিল বিজেপি। এবার সেই যাদবপুরকেই সামনে রেখে ফের বড় কর্মসূচি
তাই প্রশ্ন উঠছে, গেরুয়া সম্মান যাত্রার মাধ্যমে কি ফের জাতীয়তাবাদ এবং রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নকে সামনে আনতে চাইছে বিজেপি?কিছুদিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে ফ্রি প্যালেস্তাইন লেখা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাল্টা হিসেবে ফ্রি POK লেখা হলে তিনি সমর্থন করবেন বলেও মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর সেই বক্তব্যের পর থেকেই যাদবপুরকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়। এবার সেই একই যাদবপুরের উদ্দেশেই গেরুয়া পতাকা হাতে পদযাত্রা স্বাভাবিকভাবেই এই কর্মসূচির দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।
বিজেপির বার্তা স্পষ্ট গেরুয়া কোনও রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার হাতিয়ার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ত্যাগ, আত্মমর্যাদা এবং আদর্শ। রাজনৈতিক স্বার্থে এই রংকে ব্যবহার বা অপমান করা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না এই বার্তাই সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। আর সেই বার্তাকে সামনে রেখেই এবার রাজপথে নামছেন শুভেন্দু অধিকারী।তাই ৯ সেপ্টেম্বরের ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ ঘিরে এখন থেকেই বাড়ছে কৌতূহল। গোলপার্ক থেকে যাদবপুর এই পথ কি শুধু একটি পদযাত্রার পথ, নাকি এর মধ্য দিয়েই বাংলার রাজনীতিতে আরও বড় কোনও বার্তা দিতে চাইছে বিজেপি? গেরুয়ার মর্যাদা, জাতীয়তাবাদ এবং রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে কী বার্তা উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
