কেন্দ্রে ক্ষমতাসীনের বলীয়ান হয়ে দেশে যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী তোষণ এবং স্বৈরাচারী রাজত্ব চলছে, তা আরও একবার উলঙ্গ হয়ে সামনে এলো। যন্তর মন্তরে বকেয়া দাবির আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের অভিভাবকদের ওপর বর্বর হামলা চালানোর পর, প্রকাশ্যে সোশাল মিডিয়ায় এসে এক প্রবীণ দলিত ব্যক্তির ‘মাথা ফাটিয়ে’ দেওয়ার অহঙ্কার প্রকাশ করার পরও পার পেয়ে যাচ্ছে উগ্র হিন্দুত্ববাদী গুণ্ডা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ আইন রক্ষকের ভূমিকা ছেড়ে কীভাবে শাসকদল বিজেপির অনুগত ক্যাডারে পরিণত হয়েছে, দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতের রোববারের এই ঘটনার ক্রমপঞ্জিই তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। পকসো এবং দলিত নির্যাতন রোধ আইনের মতো গুরুতর ধারা এড়ানোর চেষ্টা থেকে শুরু করে অপরাধীকে ঢাল হয়ে রক্ষা করা—সব মিলিয়ে বিজেপির স্বৈরাচারী মানসিকতার নগ্ন রূপ উন্মোচিত হলো।
ঘটনার সূপাত যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর আচমকা চলা হামলায়। সেখানে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ ব্যানারে আসা উগ্র দুষ্কৃতীরা দিল্লি পুলিশের সামনেই আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সেই হামলায় নাবালিকা আন্দোলনকারী নিশু আজাদের বাবা সঞ্জয় আজাদের মাথা ফাটিয়ে রক্তারক্তি করে দেয় উগ্র হিন্দুত্ববাদী নেতা স্বতন্ত্র ভরদ্বাজ। শুধু তা-ই নয়, ঘটনার পরদিন প্রকাশ্যে এক পডকাস্টে বুক বাজিয়ে আস্ফালন করে স্বতন্ত্র দাবি করে, “মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পরও পুলিশ আমার কিছুই করতে পারবে না, কারণ বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানের মতো ক্ষমতাবানরা আমার মাথার ওপর বসে আছে।”
ক্ষমতার দম্ভে উন্মত্ত এই উগ্র গুণ্ডার আস্ফালন দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভের জন্ম দেয়। জনরোষের মুখে পড়ে অবশেষে ৪ সেপ্টেম্বর দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হলেও আদতে যা চলল, তা স্রেফ আইনি নাটক। গুরুতর পকসো আইন এবং তফসিলি জাতি ও আদিবাসী নির্যাতন রোধ আইন-এর মতো জামিন অযোগ্য ধারাগুলি থেকে বিজেপি ঘনিষ্ঠ এই দুষ্কৃতীকে বাঁচাতে পুলিশ চরম চক্রান্ত চালায়। আক্রান্ত দলিত পরিবারের অভিযোগ সত্ত্বেও পুলিশ প্রথম দিকে এফআইআর নিতে চায়নি এবং আদালতে তোলার সময় চরম গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। শনিবার বিচারক আদালতে না থাকা সত্ত্বেও এবং এফআইআর-এর ধারা অস্পষ্ট রেখে মাত্র একদিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ মেলে।
শুধু তা-ই নয়, মোদি-শাহের জমানায় অপরাধী ছাড় পেয়ে যায় আর ভুক্তভোগী পরিবার পায় প্রতিনিয়ত খুনের হুমকি। নাবালিকা দলিত কিশোরী নিশু আজাদকে সোশাল মিডিয়ায় লাগাতার ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, উল্টে আক্রান্ত পরিবারের বিরুদ্ধেই পাল্টা মিথ্যে এফআইআর দাঁড় করানো হয়েছে। উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলি প্রকাশ্যে পোস্ট করে বলছে পকসো ধারা বাদ পড়া নাকি ‘হিন্দুদের জয়’। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একশ্রেণির উগ্র হিন্দুত্ববাদী দুষ্কৃতী আর কতদিন বিজেপির দাদাদের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে এভাবে আইনি ব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থাকে বুড়ো আঙুল দেখাবে? আইনের শাসন ধুলোয় মিশিয়ে বিজেপি যেভাবে অপরাধীদের আড়াল করছে, আগামী দিনে সাধারণ মানুষের গণবিক্ষোভের সামনে সেই দম্ভ ভেঙে চুরমার হতে বাধ্য।
