বাংলাদেশ থেকে ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দু, শিখ ও জৈন শরণার্থীদের জন্য এক ঐতিহাসিক ও বহু প্রতীক্ষিত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র (CAA) অধীনে আবেদন জানানো সমস্ত যোগ্য শরণার্থীদের আগামী মাত্র ছয় মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে বলে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ির কাওয়াখালিতে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যেই বঙ্গবাসীকে এই ‘গ্যারান্টি’ দেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও দ্রুতগতির করতে ইতিমধ্যেই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। অমিত শাহ জানান, সিএএ-র অধীনে জমা পড়া আবেদনপত্রগুলি দ্রুত খতিয়ে দেখে সরাসরি নাগরিকত্ব প্রদানের জন্য পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী আটটি জেলার জেলাশাসকদের বিশেষ প্রশাসনিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর আগে পর্যন্ত শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ কমিটি বা বিভিন্ন বিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমেই এই প্রক্রিয়া পরিচালিত হতো। জেলাশাসকদের হাতে সরাসরি সেই ক্ষমতা যাওয়ায় দীর্ঘদিনের এই জটিল আইনি প্রক্রিয়া এবার অভাবনীয় গতি পাবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
শিলিগুড়ির এই হাই-ভোল্টেজ সভা থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র রাজনৈতিক নিশানা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সিএএ কার্যকরের সূচনা লগ্নে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার প্রসঙ্গ টেনে শাহ বলেন— তৎকালীন সরকার বলতো বাংলায় সিএএ কার্যকর হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে সেদিনের বিরোধীরাই আজ ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে এবং রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার দায়িত্বে এসেছে। একই সাথে, একদিকে যেমন যোগ্য শরণার্থীদের সম্মানজনক নাগরিকত্ব দেওয়া হবে, অন্যদিকে রাজ্য সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পুঙ্খানুপুঙ্খ চিহ্নিত করে রাজ্য থেকে বের করে দেওয়ার কড়া হুঁশিয়ারিও উঠে এসেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে।
