অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক মহিলাকে সহবাসের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। পুরুলিয়ার কাশীপুর এলাকার এক মহিলা এক ভিডিও বার্তায় এই বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে এনেছেন। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হলেও, ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভিডিওতে ওই মহিলা দাবি করেছেন, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, প্রথমে তাঁকে জানানো হয় যে বিজেপির তরফে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে। এরপর তিনি জানতে চান, ঠিক কবে থেকে ওই প্রকল্পের অর্থ পাওয়া যাবে।
মহিলার দাবি অনুযায়ী, প্রথমে তাঁর কাছে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। তিনি সেই টাকা দিতে অপারগতার কথা জানালে, অভিযুক্ত ব্যক্তি নাকি তাঁর কাছে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন। অভিযোগ, ওই ব্যক্তি বলেন যে তাঁর “শরীরের খিদে” মেটানো হলে এক মাসের মধ্যেই অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।
ভিডিওতে মহিলা আরও দাবি করেছেন, এই ঘটনার পর তিনি স্থানীয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কী পদক্ষেপ নিয়েছে বা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনও মামলা রুজু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
এই ঘটনার জেরে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিজেপি নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগীদের অন্নপূর্ণা যোজনার মাধ্যমে দ্বিগুণ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর বহু মহিলা এই প্রকল্পের বাইরে চলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন মহলে দাবি করা হচ্ছে, বিপুল সংখ্যক আবেদনকারী এখনও প্রকল্পের সুবিধা পাননি। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে। প্রকাশ্যে আসা ভিডিওটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির তরফেও এই অভিযোগের বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করা বা যৌন সুবিধা চাওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়াই প্রশাসনের দায়িত্ব।
এখন নজর থাকবে পুলিশের তদন্ত এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা সময়ই বলবে। অন্যদিকে, যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, সেক্ষেত্রেও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত এবং সরকারি তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করাই সমীচীন।
