পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, মাত্র দুই মাসের মধ্যেই রাজ্যের সাধারণ ও দুস্থ মা-বোনেদের আর্থিক স্বাবলম্বী করতে শুরু হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। চলতি মাসের ১ তারিখ থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করে ঢুকতে শুরু করেছে। কিন্তু এই প্রকল্পের ব্যাপক জনপ্রিয়তার মাঝেই উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য, যেখানে দেখা যাচ্ছে অনেকেই এই সরকারি ভাতার প্রকৃত যোগ্য না হয়েও, জালিয়াতি করে বা অনলাইনে তথ্য গোপন করে অনৈতিকভাবে সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
এই চরম অসঙ্গতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্যের নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর। কোচবিহারে রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত একটি বিশেষ মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান থেকে প্রকল্পের সঠিক ও স্বচ্ছ রূপায়ণ নিয়ে যোগ্য মা-বোনেদের এক অভিনব ও আশ্বস্তকারী বার্তা দিয়েছেন দফতরের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী মালতি রাভা রায়। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ভুয়ো আবেদনকারীদের কোনোভাবেই রেয়াত করা হবে না এবং তথ্য গোপন করে পাওয়া সমস্ত বেআইনি সুবিধা অবিলম্বে বন্ধ করা হবে।
মন্ত্রীর সাফ কথা, নতুন সরকারের বয়স মাত্র দুই মাস হলেও, প্রশাসনিক কাজে কোনো রকম ঢিলেমি বরদাস্ত করা হবে না। অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই অনেকে তাড়াহুড়ো করে ফর্ম ফিলাপ করতে গিয়ে ভুল করেছেন, আবার কেউ কেউ দু’জায়গাতেই ফর্ম জমা দিয়েছেন। যারা প্রকৃত অর্থেই যোগ্য ও ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে পড়েন, সেই সমস্ত সৎ মা-বোনেরা খুব শীঘ্রই সরকারের সম্পূর্ণ সহযোগিতা এবং অন্নপূর্ণা যোজনার প্রাপ্য টাকা পাবেন। কিন্তু যারা সরকারি নিয়মকে ফাঁকি দিয়ে অনলাইনে ইচ্ছে করে ভুল তথ্য দিয়েছেন, তাঁদের আবেদনপত্রগুলি কঠোর যাচাইকরণের পর চিরতরে বাতিল বা রিজেক্ট করা হচ্ছে। রাজ্যের পুর ও নারী-শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও এই বিষয়ে সুর মিলিয়ে জানিয়েছেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বণ্টনের পুরো প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে স্ক্রুটিনি করা হচ্ছে এবং নথিপত্রে সামান্যতম অসঙ্গতি বা জালিয়াতি ধরা পড়লেই সেই নাম তালিকা থেকে চিরতরে বাদ যাবে।
এই যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে ১০০ শতাংশ নিখুঁত করতে সরকারের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই এক বিশেষ টিম তৈরি করা হয়েছে, যার অধীনে সরকারি কর্মীরা সশরীরে প্রতিটি এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবেদনকারীদের নথিপত্র এবং সামাজিক অবস্থান খতিয়ে দেখছেন। যেসব আবেদনপত্র আগে সাময়িকভাবে বাতিল হয়েছিল বা যেগুলোতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছিল, সেগুলিকে পুনরায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে যাতে কোনো প্রকৃত দরিদ্র মা-বোন এই কল্যাণকামী যোজনা থেকে বঞ্চিত না হন। তো কোনো রাজনৈতিক তোষণ বা বেনিয়মকে প্রশ্রয় না দিয়ে, সরকারি কোষাগারের প্রতিটি পয়সা সরাসরি যোগ্য মানুষের হাতে পৌঁছে দিতে এবং এক স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা কায়েম করতে শুভেন্দু অধিকারীর ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কড়া পদক্ষেপ সত্যিই এক উন্নত, আত্মনির্ভর ও প্রগতিশীল বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
