বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো আসতে আর মাত্র তিন মাসও সময় বাকি নেই। ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে শারদীয় উৎসবের চূড়ান্ত মহাপ্রস্তুতি। কুমোরটুলিতে মাটির প্রতিমা গড়ার কাজ যেমন প্রায় অর্ধেক শেষ, তেমনই রথযাত্রার পুণ্য তিথি মেনে শুরু হয়ে গিয়েছে বহু সাবেকি ও বারোয়ারি পুজোর খুঁটিপুজো ও পরিকাঠামো তৈরির কাজ। তবে এই মহোৎসবের আবহে এবার কিন্তু গোটা পশ্চিমবঙ্গের চেনা ছবিটা অনেকটাই বদলে গিয়েছে। কারণ, রাজ্যে ঐতিহাসিক ক্ষমতার রদবদলের পর ক্ষমতায় এসেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন বিজেপি সরকার। আর নতুন সরকার এসেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানার চোখ বুজে সমস্ত ক্লাবকে নির্বিচারে টাকা বিলানোর তোষণের রাজনীতিতে এক বড়সড় ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, সাধারণ করদাতাদের কষ্টার্জিত অর্থের অপচয় রুখতে এবার থেকে কোটি কোটি টাকার স্পন্সরশিপ এবং আকাশছোঁয়া বাজেট থাকা ধনী পুজো কমিটিগুলোকে আর কোনো সরকারি অনুদান বা খয়রাতি দেওয়া হবে না।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, নতুন সরকারের এই বড় সিদ্ধান্তের পর এবার পুজো অনুদানের পুরো তালিকা থেকেই চিরতরে বাদ পড়তে চলেছে মহানগরের নামী-দামী এবং তথাকথিত ‘বড়লোক’ ক্লাবগুলো। মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি অত্যন্ত পরিষ্কার ও যুক্তিসঙ্গত— সরকারি কোষাগারের টাকা কেবল তাদের জন্যই খরচ করা উচিত, যাদের সত্যিই আর্থিক সাহায্য প্রয়োজন। যে সমস্ত ছোট বা মাঝারি পুজো কমিটি পুরোপুরি সরকারি অনুদানের ওপর নির্ভর করে প্রতি বছর কোনো রকমে মায়ের আরাধনা সম্পন্ন করে, এবার রাজ্য সরকার কেবল সেই সমস্ত যোগ্য ও অভাবী কমিটিগুলির দিকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে। তবে এই কঠোর স্ক্রুটিনির মাঝেই রাজ্য সরকারের অন্দরমহল থেকে এক বিরাট সুখবর ভেসে আসছে। রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা চলছে যে, এবার যোগ্য পুজো কমিটিগুলোর জন্য অনুদানের অঙ্ক ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা থেকে একলাফে বাড়িয়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করতে চলেছে শুভেন্দু সরকার। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নবান্নের তরফ থেকে কোনো অফিশিয়াল সিলমোহর দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে এই অনুদান প্রকল্প চালু করেছিল, যা বিগত বছরগুলোতে ধাপে ধাপে বেড়ে ১ লক্ষ ১০ হাজারে গিয়ে দাঁড়িয়েছিল। গত বছর প্রায় ৪৫ হাজার পুজো কমিটিকে এই সুবিধা দিতে গিয়ে রাজ্য কোষাগার থেকে প্রায় ৪৯৫ কোটি টাকা দেদার খরচ করা হয়েছিল, যা নিয়ে রাজ্যের সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছিল। এই অনিয়ম ও অন্যায়ের দিন শেষ করে, এবার কেবল প্রকৃত অভাবী ও সাবেকি পুজো কমিটিগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে বাংলার কৃষ্টিকে খাঁটি রূপ দিতে কোমর বেঁধেছে নতুন সরকার। তো বড় বড় ক্লাবের সিন্ডিকেট ও স্পন্সরের আধিপত্য কমিয়ে, বাংলার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজোকে প্রকৃত অর্থেই সাধারণ মানুষের সার্বজনীন উৎসব হিসেবে গড়ে তুলতে এবং সরকারি টাকার অপচয় রুখতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োপযোগী ও কড়া সিদ্ধান্ত সত্যিই এক উন্নত, দায়িত্বশীল ও প্রগতিশীল বাংলার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।
