As long as I remain in the BJP, there is no entry for them.

বিজেপিতে যতদিন আমি আছি, এদের কোনও এন্ট্রি নেই! বিস্ফোরক মন্তব্য বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের

মঙ্গলবার বিধানসভার অলিন্দে আচমকাই বাড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ। স্পিকারের ঘরের সামনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা এবং আর এক তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিধানসভা সূত্রে খবর, এরপর তারা বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে। আর তারপর থেকেই জোরদার হয় জল্পনা— তবে কি বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন এই দুই তৃণমূল বিধায়ক? ঘটনাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে আরেকটি বিষয়। সেদিনই কালীঘাটে দলীয় বৈঠক ডেকেছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেই বৈঠকে দেখা যায়নি সন্দীপন সাহাকে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সন্দীপনের কথায়, “মিটিংয়ে গিয়ে কী হবে? কোনও দিক নির্দেশ নেই। আমাদের প্রটেকশন দিতে পারছে না। নীচুতলার কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। নিজেদের প্রটেকশন নিজেদেরকে দিতে হচ্ছে। তাহলে ওই মিটিংয়ে গিয়ে কী হবে?” দলীয় বৈঠক এড়িয়ে যাওয়া, প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেওয়া, তারপর বিধানসভায় বিজেপি শিবিরের সঙ্গে বৈঠক— সব মিলিয়ে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এন্টালি কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী ছিলেন সন্দীপন সাহা। তাঁর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন বিজেপির পরিচিত মুখ প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়াল। যদিও শেষ পর্যন্ত জয় পান সন্দীপনই। কিন্তু রাজ্যে এবার ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। আর ফল প্রকাশের মাত্র ২১ দিনের মাথাতেই শাসকদলের সঙ্গে তৃণমূল বিধায়কের বৈঠক ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। এই পরিস্থিতিতে ‘বিশ্ব বাংলা সংবাদ’-এর তরফে বিজেপি নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেওয়ালের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “পার্টির উপর আমার বিশ্বাস আছে। শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় চিফ মিনিস্টার। যে কোনও এমএলএ গিয়ে ওঁর সঙ্গে দেখা করতেই পারেন, তাতে কী যায় আসে!”

তবে সন্দীপন সাহা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছেন কিনা, সেই প্রশ্ন উঠতেই আরও কড়া সুরে জবাব দেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, “বিজেপিতে যতদিন আমি আছি, এদের কোনও এন্ট্রি নেই।” প্রিয়াঙ্কার এই মন্তব্য ঘিরে এখন তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপির অন্দরে তৃণমূল থেকে আসা নেতাদের নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন— “ভালো তৃণমূল” নেতাদের দলে নেওয়ার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে দল। তাহলে কি সত্যিই তৃণমূল ছাড়ার পথে সন্দীপন সাহা? নাকি শুধুই রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল? প্রিয়াঙ্কার মন্তব্যে যে জল্পনা আরও বেড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *