ATM model for the ration system across the country.

দেশ জুড়ে রেশন ব্যবস্থায় এবার এটিএম মডেল! লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ, দেশের যে কোনো দোকান থেকে নিন চাল-গম !

রেশন দোকানে গিয়ে ডিজিটাল মেশিনে আঙুলের ছাপ না মেলা কিংবা পছন্দের সামগ্রী না পেয়ে অর্ধেক রেশন নিয়ে বাড়ি ফেরার চিরকালীন যন্ত্রণার এবার অবসান ঘটতে চলেছে। দেশের সাধারণ মানুষের খাদ্য সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এবং রেশন বণ্টন প্রক্রিয়াকে আমূল বদলে দিতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এবার থেকে রেশন কার্ড হোল্ডারদের খাদ্যসামগ্রী নেওয়ার জন্য কোনো একটি নির্দিষ্ট দোকানের ওপর নির্ভর করে মুখ চেয়ে বসে থাকতে হবে না। উপভোক্তারা চাইলে এখন নিজেদের সুবিধামতো আলাদা আলাদা দোকান থেকে আলাদা আলাদা খাদ্যশস্য ও সামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবেন। ধরুন আপনি এক ডিলারের কাছ থেকে শুধু চাল নিলেন, আর আপনার পছন্দের অন্য একটি দোকান থেকে গম সংগ্রহ করলেন—এমন অবিশ্বাস্য স্বাধীনতা আগে কখনো ভাবাই যেত না। সরকারের এই নতুন এবং নমনীয় সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ গ্রাহকেরা এক ধাক্কায় একাধিক বড় বড় সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পেতে চলেছেন।

এই নতুন নিয়মের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময়ের সাশ্রয় এবং স্বাধীনতার অধিকার। কোনো একটি নির্দিষ্ট দোকানে গ্রাহকদের আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে না, যে দোকানে ভিড় কম থাকবে উপভোক্তারা সেখান থেকেই অনায়াসে জিনিস নিতে পারবেন। অনেক সময় দেখা যায় যে, রেশন দোকানে আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক মেশিন না মেলার কারণে গরিব মানুষকে চরম হয়রানির শিকার হতে হতো। এখন এক দোকানে ফিঙ্গারপ্রিন্ট কোনো কারণে ম্যাচ না করলে গ্রাহকেরা অন্য দোকানে গিয়ে চেষ্টা করার পূর্ণ সুযোগ পাবেন। আবার কোনো দোকানে হঠাৎ কোনো নির্দিষ্ট খাদ্যশস্য ফুরিয়ে গেলে গ্রাহকদের আর খালি হাতে ফিরতে হবে না, বাকি সামগ্রী তাঁরা অন্য যে কোনো দোকান থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী বিএল ভার্মা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই অত্যাধুনিক ডিজিটাল ব্যবস্থার কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে সরকার বর্তমানে ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান রেশন কার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে গোটা দেশের রেশন বণ্টন প্রক্রিয়াকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।

প্রশাসনের এই নতুন সংস্কারটি আসলে হুবহু আমাদের চেনা এটিএম সিস্টেমের মতো কাজ করবে। একজন সাধারণ মানুষ যেমন দেশের যে কোনো প্রান্তের যে কোনো ব্যাংকের এটিএম কাউন্টারে গিয়ে নিজের প্রয়োজন মতো টাকা তুলতে পারেন, ঠিক তেমনই ভারতের যে কোনো জায়গার যে কোনো অনুমোদিত রেশন দোকান থেকে কার্ড হোল্ডাররা তাঁদের প্রাপ্য চাল, ডাল, গম বা চিনি সংগ্রহ করার আইনি অধিকার পাবেন। এই যুগান্তকারী প্রকল্পের ফলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে চলেছেন ভিন রাজ্যে কর্মরত পেশাজীবী এবং আমাদের পরিযায়ী শ্রমিক ভাইয়েরা। এতদিন পর্যন্ত নিয়ম ছিল যে, রেশন পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের নিজেদের স্থানীয় বা নির্দিষ্ট রেশন দোকানের সঙ্গেই যুক্ত থাকতে হতো, যার ফলে রুটিরুজির টানে যাঁরা নিজের রাজ্য বা বাড়ি ছেড়ে বাইরে যেতেন, তাঁরা স্রেফ রেশনের চাল-গম পাওয়া থেকে বঞ্চিত হতেন।

নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় সেই চিরকালীন ভৌগোলিক বাধা সম্পূর্ণ দূর হয়ে গেল। এখন দেশের যে কোনো রাজ্য বা শহরে আমাদের শ্রমিক ভাইয়েরা বসবাস করুন না কেন, শুধুমাত্র বায়োমেট্রিক এবং আধারের ডিজিটাল যাচাইকরণের মাধ্যমে অত্যন্ত সহজে তাঁরা নিজেদের প্রাপ্য রেশন সংগ্রহ করতে পারবেন। সরকারের এই ডিজিটাল সংস্কার রেশন ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষের খাদ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এক বিরাট মাইলফলক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার এই অভাবনীয় রূপান্তর আপনার দৈনন্দিন জীবনের জটিলতা কতটা কমাবে বলে আপনি মনে করেন, কমেন্ট বক্সে আমাদের অবশ্যই জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *