রাজ্যে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম তিন মাসের সফলতার খতিয়ান পেশের পাশাপাশি, এবার ধর্মান্তরকরণ প্রতিরোধ ও জমি হস্তান্তর সংক্রান্ত বিষয়ে দুটি অত্যন্ত কঠোর ও ঐতিহাসিক আইন আনার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার বাঁকুড়ায় দক্ষিণবঙ্গের ৭টি জেলাকে নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী। আর সেই বৈঠকের পর আয়োজিত গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিক সম্মেলনে জঙ্গলমহল ও সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে টাকার প্রলোভনে বেআইনি ধর্ম পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এক বড় ঘোষণা দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান— জঙ্গলমহল ও সীমান্ত সংলগ্ন অঞ্চলের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের অসহায়তার সুযোগ নিয়ে, বৈদেশিক অর্থের মদতে যে ধূর্ত ধর্মান্তকরণের চক্রান্ত চলছে, তা নিয়ে নবান্ন সম্পূর্ণ সচেতন। প্রশাসনিক ও আইনি উপায়ে খুব শীঘ্রই এর ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হতে চলেছে। পাশাপাশি সরকারে আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যে ওবিসি তালিকার সংশোধন, ইমাম ও মোয়াজ্জেম ভাতা বাতিল, কড়া গো-সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সীমান্ত অঞ্চলের জমি হস্তান্তরে স্বচ্ছতা আনার মতো যে সমস্ত কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেকথা আরও একবার স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।
এই প্রশাসনিক পর্যালোচনার মাঝেই মেগা বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান— খুব শীঘ্রই দেশজুড়ে এবং এই রাজ্যে ইউনিফর্ম সিভিল কোড বা ইউসিসি কার্যকর হতে চলেছে। যার মূল লক্ষ্যই হলো— এক দেশ, এক আইন। আর ইউসিসি কার্যকর হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর আর মাত্র দুটি মূল এজেন্ডা বা কাজ বাকি থাকবে বলে দাবি করেন তিনি। আর তা হলো— রাজ্যে বেআইনি ধর্ম পরিবর্তন রোখা এবং স্পর্শকাতর অঞ্চলে জমি কেনাবেচার ওপর কড়া সরকারি নিয়ম বা আইন প্রণয়ন করা। তো জঙ্গলমহলের উন্নয়নের নতুন রোডম্যাপ তৈরির পাশাপাশি, ধর্ম ও জমির নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আপসহীন বার্তা যে বঙ্গ রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার জন্ম দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
