Bangladeshis are fleeing the country out of fear of Suvendu Adhikari!

শুভেন্দু অধিকারীর ভয়ে দেশ ছেড়ে পালাচ্ছে বাংলাদেশীরা ! হোল্ডিং সেন্টার চালু হতেই দেশ ছাড়তে মরিয়া অনুপ্রবেশকারীরা !

বাংলায় শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসন আসতেই এক ঐতিহাসিক ‘রিভার্স মাইগ্রেশন’ বা উল্টো পরিযানের ছবি সামনে এল! যে অনুপ্রবেশকারীরা এতদিন বুক ফুলিয়ে বাংলার মাটি আঁকড়ে বসেছিল, আজ তারা স্রেফ প্রাণ বাঁচাতে নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যাগ-পত্তর গুছিয়ে সীমান্তে লাইন লাগিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া ‘ডিপোর্টেশন’ নীতির ভয়ে খাস হাকিমপুর সীমান্তে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য। জাল নথি দিয়ে যারা পশ্চিমবঙ্গে আস্তানা গেড়েছিল, শুভেন্দুজীর ‘হোল্ডিং সেন্টার’ চালুর এক ঘোষণাতেই আজ তাদের রাতের ঘুম উড়ে গেছে। অনুপ্রবেশকারীদের কোমর ভাঙতে নতুন সরকারের এই মেগা দাওয়াইয়ের আসল রূপরেখা কী?
আসলে বিগত তৃণমূল জমানায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার গোটা সীমান্ত এলাকাকে অনুপ্রবেশের এক উন্মুক্ত করিডোর বানিয়ে দিয়েছিল। সস্তা ভোটব্যাঙ্ক আর কাটমানির লোভে ওপার থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আর রোহিঙ্গাদের জন্য লাল গালিচা পেতে দেওয়া হয়েছিল এপারে। রেশন কার্ড, ভোটার আইডি থেকে শুরু করে সমস্ত জাল নথিপত্র এক ঝটকায় তৈরি করে দিয়ে তাদের বাংলার স্থায়ী বাসিন্দা বানিয়ে দেওয়া হতো। তৃণমূলের নেতাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে থেকে এই অবৈধ নাগরিকরা ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জনবিন্যাসকে ধ্বংস করছিল। কিন্তু নবান্নে শুভেন্দুজীর ডবল ইঞ্জিন সরকার আসতেই সেই তোষণের নোংরা রাজনীতি চিরতরে কবর দেওয়া হলো।
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনুপ্রবেশ ইস্যুতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেছেন তাঁর অমোঘ নীতি-‘‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’’! অর্থাৎ, প্রথমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করো, তারপর ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম মুছে দাও এবং সবশেষে তাদের সোজা বর্ডার পার করিয়ে দাও। এই কড়া নির্দেশ আসার পরেই প্রতিটি জেলায় শুরু হয়েছে নিবিড় সমীক্ষা বা এসআইআর । সন্দেহভাজনদের কাগজপত্র এবং নাগরিকত্ব কঠোরভাবে যাচাই করার প্রক্রিয়া শুরু হতেই সীমান্ত সংলগ্ন জেলাগুলোতে আতঙ্ক গ্রাস করেছে সমাজবিরোধীদের।
তৃণমূল আমলে যা ছিল কল্পনাতীত, আজ তাই বাস্তবে ঘটছে। রাজ্যজুড়ে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় তৈরি হচ্ছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, যাদের নাগরিকত্ব বা নথিপত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের সোজা পাঠিয়ে দেওয়া হবে এই হোল্ডিং সেন্টারে। শুধু তাই নয়, বর্ডারে নজরদারি নিশ্ছিদ্র করতে এবং কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়াও এক ঝটকায় ত্বরান্বিত করেছে শুভেন্দু সরকার। চারদিক থেকে সাঁড়াশি চাপ তৈরি হতেই অনুপ্রবেশকারীরা বুঝতে পেরেছে যে, শুভেন্দুজীর জমানায় আর ছাড় মিলবে না! আর সেই কারণেই এখন হাকিমপুর সীমান্তে স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার হিড়িক লেগেছে।
এর আগেও ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় একই ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, আর এবার তো সরাসরি হোল্ডিং সেন্টারের খাঁচা তৈরি! পিসি-ভাইপোর আমলে যে বাংলাকে অনুপ্রবেশকারীদের স্বর্গরাজ্য বানানো হয়েছিল, আজ মোদী-শুভেন্দুর জাতীয়তাবাদী সরকার সেই বাংলাকে অনুপ্রবেশকারী মুক্ত করতে বদ্ধপরিকর। দেশ আগে, ভোটব্যাঙ্ক পরে—এই নীতিতেই নতুন সুরক্ষিত সোনার বাংলা গড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী।

আপনার কী মনে হয়? শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির কারণেই কি আসলেও আজ সীমান্ত পার হয়ে পালাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *