দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের মাদারহাট স্কুলে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি থেকে সাধারণ মানুষ। অভিযোগ, স্কুলের এক ছাত্র ‘জয় শ্রী রাম’ বলায় তাকে মারধর করা হয়। সেই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন দ্রুত তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ভিত্তিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ১০ জন ছাত্রকে বহিষ্কার করেছে এবং আরও ৪ জনকে হোমে পাঠানো হয়েছে।
জানা গিয়েছে, স্কুলের মধ্যেই কয়েকজন ছাত্র ওই ছাত্রকে ঘিরে ধরে মারধর করে বলে অভিযোগ। ঘটনার ভিডিও সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটতে পারে? ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হয়। অভিভাবক মহলও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। স্কুলের পরিবেশ এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে।
এরপর স্কুল কর্তৃপক্ষ জরুরি বৈঠক করে। প্রাথমিক তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃত ১০ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে স্কুলের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অন্যদিকে, চারজন নাবালককে সংশোধনমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে হোমে পাঠানো হয়েছে। প্রশাসন এবং শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত কর্তৃপক্ষও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঘটনার নিন্দা করেছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছে। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, শিক্ষাঙ্গনে কোনও ধরনের হিংসা বা অসহিষ্ণুতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ছাত্রদের মধ্যে সম্প্রীতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন দেখার, তদন্তে আরও নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
